ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে সম্প্রতি শুরু হওয়া সংঘর্ষের কারণে ইসরায়েলি জনগণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো (সিবিএস) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৬৯ হাজারের বেশি ইসরায়েলি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে টাইমস অব ইসরায়েল প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে চলছে চলমান যুদ্ধের ফলে স্থানীয় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দেশের অভিবাসন প্রবণতা বাড়ছে এবং দ্বিতীয় বছরের মতোই এই বছরেও ইসরায়েল থেকে লোকজনের চলে যাওয়ার হার বেড়েছে।
সিবিএসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যা ১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে রেকর্ড ১ কোটি ১ লাখ ৭৮ হাজারে পৌঁছেছে। যদিও এই প্রবৃদ্ধি গত বছরের মতোই স্থির ছিল, তবে দেশটির ইতিহাসে এটি বেশ ধীর গতির বর্ষের অন্যতম। তবে টাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজের এক গবেষণায় পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে, ২০২৫ সালে জনসংখ্যার হার ০.৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে— যা হবে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১ শতাংশের নিচে।
সিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে প্রায় ২৪ হাজার ৬০০ অভিবাসী নতুন করে ইসরায়েলে এসেছেন, যা গত বছর থেকে ৮ হাজার কম। এই কমতির প্রধান কারণ ছিল রাশিয়া থেকে আসা অভিবাসীদের সংখ্যা হঠাৎ করে কমে যাওয়া। রাশিয়া থেকে ইসরায়েলে অভিবাসনের সংখ্যা ২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের পর বেশ বেড়ে গিয়েছিল।
অনেকে মনে করছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এই প্রবণতাকে প্রভাবিত করছে। এর মধ্যে রয়েছে ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং সরকারের বিচারব্যবস্থা সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে হতাশা—যা সমালোচকদের মতে দেশের গণতন্ত্রকেও দুর্বল করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, দীর্ঘসময় বিদেশে বসবাসের পরে প্রায় ১৯ হাজার ইসরায়েলি দেশে ফিরে এসেছেন এবং আরও ৫,৫০০ জন পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। ২০২৪ সালে দেশের বাইরে থেকে চলে গিয়ে ফিরে আসা ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ৮২,৭০০, যা আগত মানুষের সংখ্যার থেকে প্রায় ৫০ হাজার কম।
জনসংখ্যাবিদরা বলেছেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশিরভাগ সময়েই নতুন আগত ইহুদিদের সংখ্যার চেয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি ছিল। তবে ১৯৫০ এবং ৮০ এর দশকের কিছু সময় এই প্রবণতা ব্যতিক্রম ছিল।
সিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার ৭৬.৩ শতাংশ বা ৭৭ লাখ ৭১ হাজার মানুষ ইহুদি ও অন্যান্য ধর্মের, আরব জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২১ লাখ ৪৭ হাজার বা মোটের ২১.১ শতাংশ। এছাড়াও প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ বা ২.৬ শতাংশ বিদেশি হিসেবে বসবাস করেন।






















