ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে রাজশাহীতে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোর ১০টায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আফিয়া আখতার। সভায় রাজশাহী-১ ও রাজশাহী-২ আসনের প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে দেখা গেছে, রাজশাহী-১ আসনের ছয় প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। অন্য তিনজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, রাজশাহী-২ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয় এবং ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ দুটি আসন থেকে মোট ১৫ জন মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন, যার মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে এবং ছয়জনের বাদ পড়ে বাতিল হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। ভবিষ্যতে তারা আপিল করতে পারবেন।
জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়ন বৈধ পেয়েছেন বিএনপি থেকে মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শরিফ উদ্দিন, আমার বাংলাদেশ পার্টির আব্দুর রহমান, এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মুজিবুর রহমান। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- আল সাআদ, যিনি স্বাক্ষর থাকা স্বত্ত্বেও তার সমর্থকদের মধ্যে ২ জন মৃত এবং চারজনকে পাওয়া যায়নি। স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও উপযুক্ত প্রমাণ দিতে পারেননি তার স্বাক্ষরকারীরা। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুলতানা ইসলাম তারেকের আয়-ব্যয়ের নথিতে স্বাক্ষর অনুপস্থিত। তাঁর সমর্থকদের মধ্যে ছয়জনকে পাওয়া যায়নি, এবং সংগঠনের স্বাক্ষরেও মিল থাকা হয়নি। গণ অধিকার পরিষদের মীর মোহাম্মদ শাহজাহানের ক্ষেত্রে সংগঠনের সভাপতি নূরের স্বাক্ষর জমা থাকা স্বত্ত্বেও স্বাক্ষরের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, রাজশাহী-২ আসনে মোট নয়জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল হয়। বাকি ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। মনোনয়ন বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতে ইসলামের ডা. জাহাঙ্গীর, আমার বাংলাদেশ পার্টির অ্যাডভোকেট সাঈদ নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ফজলুল করিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির মেসবাউল ইসলাম, এবং নাগরিক ঐক্যের শামসুল আলম। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহাবুদ্দিন, যাঁর আয়-ব্যয়ের তথ্য ও স্বাক্ষর না থাকার পাশাপাশি মৃত ভোটারের সংখ্যা পাওয়া গেছে। তার সমর্থকদের মধ্যে আটজনই জানেন না যে তাদের স্বাক্ষর জমা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। লেবার ডেমোক্রেটিক পার্টির ওয়াহিদুজ্জামানের বিভিন্ন ব্যাংকে ঋণ খেলাপি থাকার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ উদ্দিনের আয়কর তালিকা না থাকা ও ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গরমিল থাকা’s কারণে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়।




















