দিন দিন দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায়, সদ্য সমাপ্ত ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বৈধ পথেঋ মাধ্যমে দেশের জন্য পাঠিয়েছেন যথাক্রমে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। এই পরিমাণ দেশে বিপুল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নতুন নজির স্থাপন করেছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৩৯ হাজার ৩৬৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। এটি নয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড। এর আগে মার্চ মাসে এই পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এসব তথ্য সম্বলিত হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাবার ছয় মাসে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৬২৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। একই সময়ের মধ্যে আগে অর্থবছরে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে, যেখানে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৬৯ কোটি ডলার বা প্রায় ৩১ শতাংশ। চলমান অর্থবছরে ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্সের প্রবাহ ছিল সুদৃঢ়, যেখানে বাংলাদেশে এ সময়ের জন্য রেমিট্যান্স এসেছে ২২০ কোটি ডলার। এই সময়ে মোট রেমিট্যান্সের পরিমাণ বেড়েছে ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ ডলারে বা ১৮ শতাংশের বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্যোগ, নানা প্রণোদনা ও ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানো আরও সহজ ও নিরাপদ করেছে। ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মাসভিত্তিক প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ছিল যথাক্রমে জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর ২৬৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং নভেম্বর ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।
অর্থবছর ২০২৪-২৫ এর শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ রেকর্ড ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি। এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার। এই প্রবাহ দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকার আশা ব্যক্ত করছে সংশ্লিষ্টরা।

