প্রয়াত বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর স্মরণে দ্বিতীয় স্ত্রী হেমা মালিনী পৃথক একটি স্মরণসভার আয়োজন করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন শুরু হয়েছে যে, দেওল পরিবারের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চলছে। মূল সামাজিক অনুষ্ঠানে যেখানে ধর্মেন্দ্রর দুই ছেলে সানি ও ববি দেওল উপস্থিত ছিলেন, সেখানে হেমা ও তার কন্যারা কেউ উপস্থিত ছিলেন না। একইভাবে হেমার আয়োজনেও দেখাও যায়নি সানি-ববি। তবে এই দূরত্ব এবং পারিবারিক বিভেদ নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি নিজেই।
ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেমা মালিনী স্পষ্ট করেছেন, এই পারিবারিক বিভেদের বিষয়টি তারা ব্যক্তিগত। তিনি বলেন, এটি একান্তই তাদের পরিবারের বিষয়, যা তারা ব্যক্তিগতভাবেই মোকাবেলা করে আসছেন। তাঁর কাছে মনে হয়, আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় আমার জন্য আলাদা এক আয়োজনের প্রয়োজন হয়েছিল। তিনি আরও জানান, তিনি দিল্লিতে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধুদের জন্য একটি স্মরণসভার আয়োজন করেছেন, আর তার নির্বাচনী এলাকা মথুরার মানুষের আবেগকে মাথায় রেখে সেখানে আলাদা আয়োজনের প্রয়োজন হয়েছিল।
হেমা মালিনী আরও তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেছেন যে, পরিবারে কোনো ভাঙন আসেনি। সবাই মর্যাদা ও শ্রদ্ধাসহ ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করছেন।
প্রসঙ্গত, বলিউডের এই জনপ্রিয় অভিনেতা ২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে চলে গেছেন। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে তার পরিবারের সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। এরপর, ৩ ডিসেম্বর, সানি ও ববি দেওল হরিদ্বারে তার অস্থিসংস্থান সম্পন্ন করেন। তবে শেষকৃত্য ও অন্যান্য ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে দুই পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে দেখা যায়নি, যার ফলে বলিপাড়ায় নানা রকম গুঞ্জন শোনা যায়।
তবে সেইসব গুঞ্জনকে অস্বীকার করে হেমা মালিনী জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্রর স্মৃতি ধরে রাখতে তাদের পরিবার একযোগে কাজ করছে। তিনি জানান, সানি দেওয়েল বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেন সে কারণে তিনি নিজেদের উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। মুম্বাইয়ের লোনাভেলায় অবস্থিত ধর্মেন্দ্রর ১০০ একর জমির ওপর নির্মিত ফার্মহাউসটিকে একটি মিউজিয়ামে রূপান্তর করার পরিকল্পনা চলমান রয়েছে। হেমা মালিনী বলেন, এই উদ্যোগ ধর্মেন্দ্রর অনুরাগীদের জন্য এক বিশেষ উপহার হবে।

