শতাধিক গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে আগামী ১৪ জানুয়ারি (বুধবার) দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আজ বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ সিদ্ধান্ত নেন।
আদালত কক্ষে জিয়াউলের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী এবং তার বোন আইনজীবী নাজনীন নাহার উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রসিকিউশন দপ্তর উপস্থাপিত তিনটি অভিযোগের বিরোধিতা করে অব্যাহতির আবেদন করেন। পাশাপাশি তারা দাবি করেন যে, তদন্ত কর্মকর্তা কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ সময় জবানবন্দি দেওয়া দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেন এবং অভিযোগ গঠন করার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রার্থীতা চালিয়ে যেতে চান। এরপরই বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা ১৪ জানুয়ারির দিন নির্ধারণ করেন।
২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি শেষে প্রসিকিউশন অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি সম্পন্ন করেন। অভিযোগে বলা হয়, ২০১১ সালের ১১ জুলাই গাজীপুরের জিয়াউল আহসানের উপস্থিতিতে তৎকালীন সময়ে নানা অপরাধের জন্য তিনজনকে হত্যা করা হয়।
আরেকটি অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী খাল ও বলেশ্বর নদীর মোহনা ঘেঁষা এলাকায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যা করা হয়। এছাড়া একই সময়ে বাগেরহাটের শরণখোলাসহ বিভিন্ন বনাঞ্চলে বনদস্যু দমন নামে আরও ৫০ জনের প্রাণ নেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এসব হত্যাকাণ্ডের জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ মঞ্জুর করে, একইসঙ্গে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

