রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ীতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছেন। গত বছরের ২১ জুলাই ওই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় বহু প্রাণহানি ঘটে, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত। এর পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের অঙ্গীকার ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আসছে।
সেপ্টেম্বর ৮ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবিগুলো জানান। তারা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার জন্য মূলত পাইলটের উড্ডয়নের ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং স্কুল ভবনের নির্মাণে অনিয়ম দায়ী। তারা উল্লেখ করেন, তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা পাইলটের ওপরে দায় সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি, অবসরে থাকা বিমানবাহিনী প্রধানের তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে: প্রথমত, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, প্রভাবিত পরিবারগুলোর জন্য পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ; তৃতীয়ত, নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান; চতুর্থত, ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা এবং উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ ও শিশুদের কবরের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা; পঞ্চমত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানসিক সহায়তার ব্যবস্থা করা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা বলেন, ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিমানবাহিনীর বাজেটে দুর্নীতি না থাকলে অভ্যন্তরীণ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ সম্ভব হতো। তাদের দাবির পক্ষে, দুর্নীতির কারণেই ৩৬ জন জীবন হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছে। তারা বিমান নির্মাণের অনিয়মের কারণেও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার জন্য দায়ী করেন। উপস্থিত পরিবারগুলো কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং জানান, দুর্ঘটনার দিন দুপুর ১:১২ মিনিটে বিমানটি বাতাসে আছড়ে পড়লে শিশুরা, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দগ্ধ ও বিভক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ধরনের ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ইতিহাসে বিরল।
অভিযোগ করা হয় যে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসে ঘোষণা দিয়েও তাদের ক্ষতিপূরণ ছাড়া ন্যায্য বিচার পাননি পরিবারের সদস্যরা। তারা আরও জানান, বিভিন্ন আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও এখনও ন্যায্য দাবিগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। তারা দাবি করেন, সরকারের দ্রুত ও নিষ্ঠার সঙ্গে ন্যায্য বিচার ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা যেন দ্রুত গ্রহণ করা হয়। পরিবারের সদস্যরা বলেন, ক্ষতিপূরণ ও ন্যায্যতা তাদের জীবনের সর্বোচ্চ চাওয়া। তাদের এই দাবিগুলো মান্যতা পেলে অন্তত কিছু শান্তি ফিরে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

