দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যশোরে এক অভিযানে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষসহ তাকে আটক করে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার সন্ধ্যায় যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে, যখন দুদকের একটি দল আসামির বিরুদ্ধে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায়। পরে, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে থানায় সোপর্দ করা হয়। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারার এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ নিশ্চিত করেছেন যে, ঘটনাটি তদন্তাধীন।
অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিরিনা আক্তার মৃত্যুবরণ করেন ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট। মৃত্যুর পর, তার স্বামী মোহাম্মদ নুরুনবী প্রাক্তন শিক্ষক, গত বছর ৩০ অক্টোবর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তার স্ত্রীর পেনশনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু, আবেদন দেওয়ার পরে থেকেই জেলা শিক্ষা অফিসের আ techniকাররা তাকে হয়রানি করতে থাকেন। দীর্ঘ সময় ধরে তার পেনশনের ফাইলে স্বাক্ষর না করে গড়িমসি করেন, আর অবশেষে তিনি দাবি করেন এক লাখ ২০ হাজার টাকার ঘুষ। নুরুনবী অভিযোগ করেন, এই টাকা না দিলে তার স্ত্রীর পেনশনের কাজ দেরি হবে। তিনি দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ করলে, দুদকের একটি দল বুধবার বিকেলে অভিযানে এসে তার কাছ থেকে ঘুষের টাকা গ্রহণ এবং কোর্টে ধরা যায়।
অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন দুদকের যশোর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ সালাহউদ্দিন ও অন্যান্য কর্মকর্তারা। নুরুনবী বলেন, তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর থেকে তার পেনশনের জন্য নানা ধরনের হয়রানির শিকার হয়েছেন। বাধ্য হয়ে টাকা দিতে থাকলেও, আরও বেশি ঘুষের দাবি করে শিক্ষা কর্মকর্তা। টাকা না দিলে পেনশনের কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেন তিনি। এর ফলে, বাধ্য হয়ে তিনি ঘুষের টাকা সহ অফিসে যান, যেখানে দুদক তাকে আটক করে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মোঃ আল-আমিন জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি দুদক প্রধান কার্যালয়ে অবহিত করা হয়। অনুমোদনের পর, অভিযানে গিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার কাছ থেকে টাকাসহ তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ও অনুসন্ধান চলমান রয়েছে, যেখানে অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

