মাগুরার মহম্ম্মদপুর উপজেলার ঘটনা ঘটেছে ভয়াবহ এক ধর্ষণের ঘটনায়, যেখানে ইন্টারনেটে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে (৩০) দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এই ঘটনায় সোমবার দিবাগত রাতে ঘটনার শিকার নারী মামলা করেন, যেখানে চারজনের নামে অভিযোগ করা হয়। মঙ্গলবার পুলিশের অভিযান চালিয়ে এই চার আসামির মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপর দুজন পলাতক রয়েছে।
আসামিরা হলেন মহম্ম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের মোঃ সিজান মাহমুদ (২০), নাফিজ আহম্মেদ (২২), রুবেল শেখ (২৪), ও মোঃ সুমন শেখ (২৫)। এর মধ্যে মোঃ সিজান মাহম্মুদ ও নাফিজ আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উল্লেখ্য, এই দুজন ছিল গত বছরের ২০ এপ্রিল মহম্ম্মদপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য ও মুখপাত্র।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মহম্ম্মদপুর জেলা আহŸায়ক সেলিম বলেন, ‘যে কমিটিতে তাঁদের নাম ছিল, তৎক্ষণাৎ মাত্র দুই দিনের মধ্যে সেই কমিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়। এখন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।’
পুলিশের জানা মতে, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী প্রবাসে থাকেন। তিনি কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। ঘটনার দিন রাতে তিনি তার কাজ শেষে বাসে বাড়িতে ফিরছিলেন। বাস থেকে নামার পর, পূর্বপরিচিত সিজান মাহমুদ ফোন করে দেখা করতে চায়। এরপরই অন্য তিন আসামি তাঁকে ঘিরে ধরে। সিজান মাহম্মদ ওই নারীর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তাকে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে নাফিজ আহম্মেদ। এই ভিডিও ভয় দেখিয়ে এবং ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চারজনই দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। অভিযোগ, ধর্ষণের বিনিময়ে তাকে অপমানজনক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা এবং পোশাক সংগ্রহ করা হয়েছে। এ বিষয়ে আদালতের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারীর ও আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। অপর আসামিদের খোঁজে অভিযান চালানো হচ্ছে।

