সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ বলেছেন, সাংস্কৃতিক বিনোদনের পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের বিকাশে অনেক বেশি। তিনি মনে করেন, তরুণদের মধ্যে খেলাধুলাকে জনপ্রিয় করে তুললে মাদকের মতো মারাত্মক সমস্যা দূর করা সম্ভব, যা সমাজের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালকে খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হলো সমাজসেবা অধিদপ্তরাধীন খুলনা বিভাগের আবাসিক প্রতিষ্ঠানসমূহের নিবাসীদের দুই দিনব্যাপী বিভাগীয় বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন তিনি।
আফিসে বক্তৃতা করেন ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, তিনি বলেন, সরকারের ৯৬টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে ২৯টি সরাসরি সমাজসেবা অধিদপ্তর দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার উপকারভোগীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি ২৩ লক্ষ। প্রতিবারের মতো এ বারও সমাজসেবা অধিদপ্তর আয়োজন করে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, যেখানে শিশুরা খুবই আগ্রহের সাথে অংশগ্রহণ করে।
সচিব আরও বলেন, এই শিশুদের জন্য প্রাপ্ত সুবিধাগুলো এখনও পর্যাপ্ত নয়, তাই এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা চলমান। তিনি উল্লেখ করেন, তাদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র লেখাপড়া হয়ে গেলে হবে না, মনের খোরাক পূরণে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়ে যায়। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিছুটা হলেও শিশুদেরকে স্কুলের বাইরে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে, যা তাদের মনোভাব বিকাশে সহায়ক।
খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: মোখতার আহমেদ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো: কামাল উদ্দিন বিশ্বাস, খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো: মনজুর আলম ও জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ আরিফুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন খুলনা বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়।
দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ১৫টি শিশু পরিবার অংশ নেয়। অনুষ্ঠানে শিশুদের কুচকাওয়াজ এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ছিল অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ মহেশ্বরপাশা ছোটমনি নিবাস পরিদর্শন করেন, যেখানে তিনি শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আরও উন্নতির জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

