দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে সম্প্রতি দফায় দফায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার ভোরে পাকিস্তানের পেশোয়ার ও তাজিকিস্তান-শিনজিয়াং সীমান্তবর্তী এলাকায় ৫.৮ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূকম্পন অনুভূত হয়। নিজেদের অবস্থানে এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে। পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর (পিএমডি) জানিয়েছে, এই কম্পনটি অনুভূত হয় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে—প্রবল জোড়ালো কম্পন অনুভূত হয় রাজধানী ইসলামাবাদ ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ক্ষত্রে। এদিকে, ভারতের গুজরাট রাজ্যের রাজকোট শহরে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ৯ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যা সাধারণত ‘মাইক্রো’ বা ‘মাইনর’ শ্রেণীতে পড়ে। তবে এই কম্পনগুলো খুবই স্বল্প সময়ের জন্য হলেও মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত রাজকোটে এই কম্পনগুলো ঘটে, যার উৎপত্তিস্থল ছিল শহরের উত্তর-পশ্চিমে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ কিলোমিটার গভীরে। প্রথমবার ৮ জানুয়ারি রাত ৮:৪৩ মিনিটে অনুভূত হয় এবং শেষটি ঘটে ভোর ৮:৩৪ মিনিটে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের বেশি সংখ্যক কম্পনকে তারা ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে দেখছেন। সাধারণত কচ্ছ অঞ্চলে এই ধরনের ভূকম্পন বেশি হলেও রাজকোটে এই ধারাবাহিক ঘটনা বিশেষ যত্নআত্তির বিষয়। ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় এই দেশটি অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে যথাক্রমে ৩.২ ও ৫.৫ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ভারতের গুজরাটের রাজকোটেও এই ধরনের ভূকম্পনের পরিমাণ বেশি দেখা গেছে। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভূমিকম্পের প্রতিরোধ ও সতর্কতার ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরগুলো বলেছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতের কম্পন মোকাবিলার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।

