বিএনপি নতুন নেতৃত্বে গঠিত হলে জাতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করার দৃঢ় আশ্বাস দিয়ে দলের নতুন চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এখনো ৫ অগাস্টের আগের পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই না। তিনি উল্লেখ করেন, আমার সামনে দুটি উদাহরণ রয়েছে—একটি, ১৯৮১ সালের জানাজা; অন্যটি, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের জানাজা। এর পাশাপাশি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের ঘটনাও আমার মনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। এই সব ঘটনা শুধুমাত্র আমার নয়, বরং আমাদের দলের নেতাকর্মীদের এবং সাধারণ দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। আমাদের মনে রাখা উচিত, অতীতের এই সময়গুলো ফিরে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকায় এক হোটেলে সংবাদসংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান আরও বলেন, ৫ অগাস্টের মতো হিংসা, প্রতিশোধের উদ্রেক হলে যার পরিণতি কী হতে পারে তা আমরা দেখেছি। এজন্য আমি সকলের প্রতি অনুরোধ রইল—মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমাদের চেষ্টা করে মূল্যবান আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যাগুলো সমাধান করতে হবে। কখনো যেন এসব মতবিভেদ বিভেদে পরিণত হয় না, কারণ বিভেদ দেশের একটি বৃহত্তর ক্ষতি করে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেকের মুখে হতাশার কথা শোনা যায়, তবে ভবিষ্যত প্রজন্মের মনে এখনও আশা রয়েছে এবং পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ফিরেই তিনি বাংলাদেশে এসেছেন পরিবারের সাথে। এরপর ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। এই শোকের মধ্য দিয়ে দুই সপ্তাহের মধ্যেই শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এরপরই প্রথম কর্মসূচিতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করতে উপস্থিত হন তিনি। ঢাকার এক সাংবাদিকের কাছে মাননীয় সম্বোধন ব্যবহারের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট পদক্ষেপ জানিয়ে বলেন, দয়া করে আমার নামের আগে ‘মাননীয়’ সম্বোধন করবেন না। তিনি বলেন, দেশে ফিরে আসার পরে আমি বিভিন্ন স্থানেই গিয়েছি, যেমন সাভার এবং অন্যান্য এলাকায়। আমি মনে করি, তরুণ সমাজ নতুন গাইডেন্স এবং আশার স্থান খুঁজছে। প্রত্যেক প্রজন্মের জন্যই সেই গাইডেন্সের প্রয়োজন। আমি বুঝতে পারছি, আমরা যারা রাজনীতিতে আছেন, আমাদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে, কিন্তু সব কিছু পূরণ সম্ভব না। তবে যদি আমরা ১৯৭১, ১৯৯০, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোকে সামনে রেখে দেশাধীন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি, তাহলে আমি বিশ্বাস করি আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে একটি সঠিক দিকনায়না দিতে পারব।

