আগামী নির্বাচনে কেউ যদি কোনো ধরনের ‘মেকানিজম’ বা কারসাজি করার চিন্তা করে, তাহলে তারা পালাতে বাধ্য হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির এক ভাষণে বলেন, নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে কলুষিত করার চিন্তা যারা করবে, তাদের আড়ালে থাকতে হবে না; বরং তাদের জন্য পরিণতি কঠিন হবে এবং তারা পালাতে বাধ্য হবে ইনশাআল্লাহ।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা ওই পুরনো তিন বা চারটি নির্বাচনের মতো নির্বাচন আর দেখতে চাই না। যে নির্বাচন আসুক না কেন, আসলে তা যেন অন্তর থেকে গ্রহণযোগ্য হয়, এর জন্য সবাই সচেতন থাকতে হবে। তিনি বলেন, নয়টি বা অন্য কোন ধরনের শুঁড়ি থেকে মুক্ত, এমন একটি নির্বাচন চাই, যেখানে প্রতিটি ভোটার স্বাচ্ছন্দ্য ও বিশ্বাসের সঙ্গে ভোট দিতে পারবে। যদি সেই পরিবেশ তৈরি হয়, তবে নির্বাচন হবে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের আন্তরিকতা এই ব্যাপারে কম, যার ফলে সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। জামায়াতের আমির বলেন, প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে নিরাপত্তার জন্য অবকাঠামো উন্নত করতে হবে, এর মধ্যে সিসিটিভি ক্যামেরার সুবিধাও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের উদাসীনতা উদ্বেগের কারণ বলে মনে করেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এর বাইরে আরও লাখ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে। দুর্নীতি ও চুরি বন্ধ হলে দেশের অর্থনীতি আবার ঘূroffব বেগে এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো উচিত—যদিও এ পরিকল্পনায় সরকারের অঙ্গীকার বা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের দায়িত্ব রয়েছেন। জনগণ যেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য সরকারের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যথায় দায়িত্ব এড়ানো হবে না।
এছাড়াও, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক কর্মপ্রয়াস ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক তথ্য উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীনতা ঘোষণার মূল বার্তা ছিল গণতান্ত্রিক শক্তির। স্বাধীনতার মানসপটে বিকৃতির চেষ্টাকারীদের তিনি কড়া ভাষায় ভাষ্য দিয়ে বলেন, এই ইতিহাস অমোচনীয়, এবং যারা এ জন্য চেষ্টা করেন, তারা জাতির সাথে বিশ্বাসघাতার করছেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ অক্ষুণ্ণ রাখতে ও জাতির সম্মান বজায় রাখতে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কর্নেল (অব.) মো. জাকারিয়া হোসেন। স্বাগত বক্তব্যে দেন জামায়াতের ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আবদুল বাতেন। উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ অন্যরা। এছাড়াও, অনুষ্ঠানে ছিলেন কয়েক শ’ ব্যক্তির উপস্থি।

