অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষে মূল্যস্ফীতি কমানো সম্ভব নয় যদি না ব্যবসায়ীরা সহযোগিতা করে। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ব্যাংকিং অ্যালমানাকের সপ্তম সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্যাখ্যা করেন যে, বর্তমানে ব্যাংকিং খাত অনেকটাই স্থিতিশীল থাকলেও, ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো এক্ষণে সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “ব্যাংকিং খাতে এখন কিছুটা স্থিতিশীলতা আসলেও, সুদের হার কমানো সহজ নয়। ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া সরকারের জন্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ কঠিন।”
অর্থ উপদেষ্টা অভিযোগ করেন যে, দেড় দশক ধরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক খাতের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে কিছু কিছু সুবিধাভোগী ঋণ নিয়ে লুটপাট ও পাচার করেছে, বা সমান্তরালভাবে ব্যাংকের খারাপ দিকগুলো ঢেকে রেখেছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকার এসে এসব অনিয়মের বিষয়াদি বাইরে এনে ব্যাংকখাতের স্বচ্ছতা আনতে বিভিন্ন সংস্কার শুরু করেছে।
সালেহউদ্দিন আহমেদ আরো বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত উন্নতির পথে নিয়ে যাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংকিং সেক্টির বেশির ভাগই এখন স্থিতিশীল। তবে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের সুদের হার কমেনি, কারণ অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে স্থিতিশীল রাখতে হলে এখনই সব কিছু সম্ভব নয়।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, শুধুমাত্র সুদের হার কমানো সমুদ্রের ঢেউ সারানোর মতো নয়, কারণ বাজারে ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণের জন্য মনিটারি পলিসির পাশাপাশি সাপ্লাই চেন নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “ইনফ্লেশন শুধুমাত্র মনিটারি পলিসির ফলে হয় না, এটা বহুমুখী বিষয়, যা রাজনৈতিক দিক থেকেও মনোযোগ দেওয়া উচিত।”
অর্থ উপদেষ্টা উদাহরণ দিয়ে বলেন, “যখন আপনি কারওয়ানে একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন, পরের দিন সবাই আবার সেই জরিমানা দিতে চায় না। তারা চাঁদা তুলে আবার একই কাজ শুরু করে, যা মূল সমস্যা নয়।”
তিনি 강조 করেন যে, সাধারণ কমিউনিটি, হোলসেলার ট্রেডার ও রিটেইলারদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি এসব খাতের আয় বা মুনাফা কমানোর পক্ষে না থাকলেও, সব অংশীদারদের সহযোগিতা নিয়ে বাজারের স্বচ্ছতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব। তিনি বলেন, “শুধু ফিসক্যাল এবং মনিটারি পলিসি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ বা ক্যাব কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন একা সবকিছু সমাধান করতে পারে না। সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নতি হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সাবেক তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক স্বস্তি এখনও আসেনি। তবে, অর্থনৈতিক শাসন শক্তিশালী করে ও আরও নজরদারি বাড়ানো হলে ভবিষ্যতে উন্নতি সম্ভব। তিনি বলেন, “সকল অংশীদারদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।”
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান מজুমদার, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নাজমা মোবারেক, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি আবদুল হাই সরকার।
