রংপুরে রেকটিফায়েড স্পিরিট পানে আরও দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে, যার ফলে গত তিন দিনেই মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় আরও দুজন গুরুতরভাবে অসুস্থ হয়েছেন। মৃত ব্যক্তিরা হলেন বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের মহির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল মালেক এবং রংপুর সদর উপজেলার শ্যামপুর বন্দর কলেজ পাড়ার মৃত মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) মধ্যরাতে তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, ১১ জানুয়ারি রাতে বদরগঞ্জের শ্যামপুরহাট এলাকার জায়গায় ডেকে রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাস্থলেই মারা যান বদরগঞ্জের গোপালপুর ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন, পূর্ব শিবপুরের রফিকুল ইসলামের ছেলে সোহেল মিয়া এবং সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের জেননাত আলির। আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে গোপনে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ এই ঘটনায় মোখেলো মাদককারবারি জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে, একই ধরণের আরেক ঘটনার ফলে মানিক চন্দ্র নামে একজন হাসপাতালে মারা গেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শ্যামপুরের বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন নিয়মিত চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করেন। মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করেছিলেন, এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ে মারা গেছেন। গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, এই এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে রেকটিফায়েড স্পিরিট বিক্রি হচ্ছে, যা আগে থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের নজরে ছিল। এলাকার মাদক ব্যবসা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের হাজিরহাট থানার ওসি আজাদ রহমান জানান, সোমবার সন্ধ্যায় হাজিরহাট থানার বালারবাজারে স্পিরিট খেয়ে অসুস্থ হন সদর কোতয়ালী থানার শিবের বাজার পশ্চিম হিন্দুপাড়ার মৃত অনिल চন্দ্র রায়ের ছেলে মানিক চন্দ্র রায় (৬০)। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তিনি আরও জানান, আশপাশের আরও বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পুলিশ জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা নিয়ে বদরগঞ্জ ও হাজিরহাট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে ১০ বোতল স্পিরিট। এ ছাড়া বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ওসি হাসান জাহিদ সরকার ও সদর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল গফুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

