বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক চলছে। নিরাপত্তার উদ্বেগ উত্থাপন করে বিসিবি আগেই ঘোষণা দিয়েছে যে দল ভারত যাওয়া থেকে বিরত থাকবে। আইসিসি সেই সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ — তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, খেলতে হলে ম্যাচগুলোই ভারতেই হবে এবং সূচিতে পরিবর্তন গ্রহনযোগ্য নয়। আশানুরূপ প্রতিক্রিয়া না পালে আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছে; তা না হলে দলকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে অন্য কেউ (যেমন স্কটল্যান্ড) নেওয়ার কথাও চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে টেলিভিশন আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার কড়া অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়া ২০০৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কা খেলতে যায়নি, ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে খেলতে যায়নি, নিউজিল্যান্ড কানাডায় খেলতে যায়নি — তাতে তাদের ক্রিকেট থেমে গিয়েছে কি? যদি বাংলাদেশ একটা বিশ্বকাপ না খেলেই, তাহলে আমাদের ক্রিকেট বন্ধ হয়ে যাবে?’’ তাঁর এই বক্তব্যে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকার নিয়ে জোর দেন এবং দেশীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেন।
সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল আজ বিকেল ৩টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। সেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং অবশেষে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তা নির্ধারণের চেষ্টা করা হবে।
বিসিবি আগেই আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানিয়েছে যে নিরাপত্তার কারণে ভারতে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র (যেমন শ্রীলঙ্কা) আয়োজনের অনুরোধ করেছে। তবে আইসিসি আত্মবিশ্বাসী; তাদের নিরাপত্তা মূল্যায়নে কোনো বড় ঝুঁকি পাওয়া যায়নি, ফলে পুরো সূচি বদলানো সম্ভব নয় বলে তারা জানিয়েছে। তাদের যুক্তি ছিল, সূচি বদলালে টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা ও মর্যাদা হুমকিতে পড়বে।
বিসিবি ও সরকারের মধ্যে যে বিতর্ক ও বৈঠক চলছে, তার ফলটাই আগামী কয়েক ঘণ্টায় খুলে যাবে — চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাকে অনুসরণ করবে, বিসিবি ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ নাকি আইসিসির অনমনীয় সময়সীমাই চূড়ান্ত করবে। সেক্ষেত্রে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে থেকে সিদ্ধান্তের প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

