বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি বলেছেন, গত কয়েক বছর ধরে উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ সরকার দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে। এই মন্তব্য তিনি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তুলে ধরেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয়। দেশের বাইরে এবং দেশে বসে তারা নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে, যার থেকে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পূর্বেও দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রের মোকাবিলা করেছে, এবং ভবিষ্যতেও করবে।’
তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে তিনি বৈদেশিক পৃষ্ঠপোষকতাকে পিন্ডি বা দিল্লির দিক থেকে দেখতে চান না। তার বক্তব্য, বাংলাদেশে জনগণের অগ্রগতি ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, এবং ১২ তারিখের ধানের শীষ মার্কা বিজয়ের মাধ্যমে এই অগ্রগতি সফল্লপূর্ণ হবে। তিনি জনগণকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ধানের শীষে ভোট দিন, আমরা কাজ করব, দেশ গড়ে তুলব।’
তারেক রহমান গণতন্ত্রের মূল্যবোধের প্রতি গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নত দেশগুলোতে প্রশাসনিক ও স্থানীয় স্তরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে সফলতা দেখা যায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখনো দুর্বল, যেখানে রোগীর তুলনায় হাসপাতালে চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। এরজন্য দরকার দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা সেবা, বিশেষ করে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে।
তিনি বলেছিলেন, প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয়, বরং দেশের বিভিন্ন নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকা উচিত। এর পাশাপাশি, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে যাতে কমিউনিটি পর্যায়ে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারে, যা হাসপাতালের উপর চাপ কমাবে।
তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও স্থানীয় কমিউনিটির শক্তিশালী গণতন্ত্রের বিকল্প নেই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার জন্য।
বিদেশে অদক্ষ শ্রমিকের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রতি বছরApproximately ৭০ লাখ মানুষ বিদেশে যাবে, যার বড় অংশই অদক্ষ। এটি দেশের অর্থনীতিতে প্রয়োজনীয় অবদান রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। তিনি কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষার আধুনিকায়নে মনোযোগ দিতে চান, যেখানে ভাষা শিক্ষাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে যেন তরুণরা বিশ্ববাজারে দক্ষ হয়ে কাজ করতে পারে।
নারী ক্ষমতায়নে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকারের নানা উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে, যেমন বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা, যার ফলে গ্রামীণ নারী শিক্ষায় অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, ফ্যামিলি কার্ড চালু করে পরিবারপ্রধান নারীদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ সুবিধা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, তথাকথিত উন্নয়নের নামে দেশের অর্থ লুট করা হয়েছে, দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের হাত ধরে ব্যবসা-রাজনীতি ও নির্বাচন প্রক্রিয়া দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষা করেছে আস্থাশীল মানুষেরা।
তিনি নারীদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার জন্য ফ্যামিলি কার্ডের পরিকল্পনা পুনরায় তুলে ধরেন। গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা এই অর্থের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করেন, যা পরিবার ও দেশের উন্নতিতে সহায়ক।
পরিবেশ রক্ষা ও গণতন্ত্রের সংযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকার থাকলেই শহরের দূষণ ও ময়লা ব্যবস্থাপনা সমস্যাগুলি সমাধান সম্ভব। তিনি জানিয়েছেন, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে ৮০ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে, প্রতিটি উপজেলায় চারা বিতরণের মাধ্যমে।
অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার জন্য তিনি কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীর প্রভাব কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন, যাতে কৃষকরা প্রতীকী সহায়তার পরিবর্তে প্রকৃত সুবিধা পান।
বেলা ১০:৫০ মিনিটে পবিত্র কুরআন তেলওয়াতের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয়। এর পর বিকেল সাড়ে বারোটায় তারেক রহমান মঞ্চে উঠলে আবহে উৎসাহ ও আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়। সর্বশেষ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি, এবং জনসভার জন্য বিভিন্ন নেতাকর্মীর উপস্থিতি ব্যাপক ছিল।

