দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বহির্গত প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি ৫৯ জনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। বুধবার সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বহিষ্কারের আদেশে genannten নেতাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর করা হবে। দলের নির্দেশ অমান্য করার কারণে গত ৩০ ডিসেম্বর ইতোমধ্যে ১১ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছিল; নতুন বহিষ্কারের মাত্রা যোগ করে মোট ৫৯ জনের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
বহিষ্কৃতদের তালিকা বিভাগভিত্তিকভাবে নিম্নরূপ:
রংপুর বিভাগ: দিনাজপুর-২ আসনের আ ন ম বজলুর রশিদ, দিনাজপুর-৫ আসনের এ জেড এম রেজয়ানুল হক এবং নীলফামারী-৪ আসনের রিয়াদ আরাফান সরকার রানা।
রাজশাহী বিভাগ: নওগাঁ-৩ পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী ‘জনি’, নাটোর-১ থেকে তাইফুল ইসলাম টিপু ও ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজন, নাটোর-৩ দাউদার মাহমুদ, রাজশাহী-৫ থেকে ইসফা খাইরুল হক শিমুল ও ব্যারিস্টার রেজাউল করিম, পাবনা-৩ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম এবং পাবনা-৪ জাকারিয়া পিন্টু।
খুলনা বিভাগ: কুষ্টিয়া-১ নুরুজ্জামান হাবলু মোল্লা, নড়াইল-২ মনিরুল ইসলাম, যশোর-৫ অ্যাডভোকেট শহিদ ইকবাল, সাতক্ষীরা-৩ ডা. শহীদুল আলম, বাগেরহাট-১ ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ ও বাগেরহাট-৪ খায়রুজ্জামান শিপন।
বরিশাল বিভাগ: বরিশাল-১ আব্দুস সোবহান ও পিরোজপুর-২ মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন।
ঢাকা বিভাগ: নারায়ণগঞ্জ-১ (সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপি নেতা) মোহাম্মাদ দুলাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-২ মো. আতাউর রহমান খান আঙুর, নারায়ণগঞ্জ-৩ অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম; টাঙ্গাইল-১ মোহাম্মাদ আলী, টাঙ্গাইল-৩ লুৎফর রহমান খান আজাদ, টাঙ্গাইল-৫ ফরহাদ ইকবাল। এছাড়া নরসিংদী-৫ মো. জামাল আহমেদ চৌধুরী, মুন্সিগঞ্জ-১ মো. মুমিন আলী ও মুন্সিগঞ্জ-৩ মো. মহিউদ্দিনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ বিভাগ: কিশোরগঞ্জ-১ রেজাউল করিম চুন্নু, কিশোরগঞ্জ-৫ শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, ময়মনসিংহ-১ সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-১০ এবি সিদ্দিকুর রহমান, ময়মনসিংহ-১১ মো. মোর্শেদ আলম, নেত্রকোণা-৩ মো. দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া, শেরপুর-৩ মো. আমিনুল ইসলাম বাদশাহ; মাদারিপুর-১ থেকে লাভলু সিদ্দিকী ও কামাল জামাল নুরুউদ্দিন মোল্লা, মাদারিপুর-২ মিল্টন বৈদ্য; রাজবাড়ী-২ নাসিরুল হক সাবু; গোপালগঞ্জ-২ এম এস খান মঞ্জু ও সিরাজুল ইসলাম সিরাজ; গোপালগঞ্জ-৩ হাবিবুর রহমান হাবিব।
সিলেট বিভাগ: সুনামগঞ্জ-৩ আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন, সিলেট-৫ মামুনুর রশীদ (চাকসু), মৌলভীবাজার-৪ মহসিন মিয়া মধু এবং হবিগঞ্জ-১ শেখ সুজাত মিয়া।
কুমিল্লা বিভাগ: ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ কামরুজ্জামান মামুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ কৃষিবিদ সাইদুজ্জামান কামাল, কুমিল্লা-২ আব্দুল মতিন, কুমিল্লা-৭ আতিকুল আলম শাওন এবং চাঁদপুর-৪ এম এ হান্নান।
চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম-১৪ মিজানুল হক চৌধুরী, শফিকুল ইসলাম রাহী, চট্টগ্রাম-১৬ লিয়াকত আলী চেয়ারম্যান; নোয়াখালী-২ কাজী মফিজুর রহমান, নোয়াখালী-৬ ফজলুল আজীম ও নোয়াখালী-৬ থেকে তানবীর উদ্দীন রাজীব।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে দলীয় শৃঙ্খলা ভাঙার এই ধরনের বাহিরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সেই কারণেই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিএনপি আশা করছে কর্মকর্তারা ও নেতাকর্মীরা দলীয় নীতিমালার প্রতি আনুগত্য বজায় রাখবেন এবং আগামী নির্বাচনে দলকে শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেবেন।

