বিপিএল ফাইনাল শুরুর আনুষ্ঠানিকতায় হেলিকপ্টারযোগে মঞ্চে এলো ট্রফিটি—সাথে ছিলেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলী ও নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন। আকবর আলী যুব বিশ্বকাপজয়ের স্মৃতিচারণ করে ট্রফি মঞ্চে আনেন এবং ভক্তদের উচ্ছ্বাস ছড়ান।
মাঠে নেমে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বাঁহাতি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে দলকে জিতে দেন। তানজিদ ৬১ বলেই সেঞ্চুরি করে, পরের বলে মুগ্ধরের উইকেটে গিয়ে ৬২ বলে ১০০ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার অগ্রগতিতে রাজশাহী ১৭৪ রানের সম্মানজনক সংগ্রহ গড়তে পারে এবং জয়ের জন্য চট্টগ্রামকে ১৭৫ রানের লক্ষ্যমাত্রা দিতে পারে।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চট্টগ্রামের শুরুটা ভালো হয়নি। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর বলেই নাইম শেখকে সাজঘরে ফেরানো হয়—বিনুরার ডেলিভারিটি অফ স্টাম্পের বাইরে থেকেই ভেতরে ঢুকতে গিয়ে বোল্ড হয় নাইম। দ্রুতই ফিরে যান মাহমুদুল হাসান জয়ও। এরপর তানজিদের বলেই সাজঘরে ফেরেন দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানও। মির্জা ও হাসান নাওয়াজ একটি জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও নাওয়াজকে ফেরান হাসান মুরাদ।
চট্টগ্রামের বেশ কজন ব্যাটসম্যান টিকতে পারেননি; মেহেদী, জাহিদুজ্জামান সাগর ও অন্যান্যরাও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান তাহির ও আসিফ আলি দায়িত্বশীলভাবে খেললেও কোনো বড় জুটিও গড়ে তুলতে পারেননি। তাহির ৩৬ বলে ৩৯ ও আসিফ ২১ রানে ফেরার পর চট্টগ্রামের জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় এবং তারা শেষ পর্যন্ত ১১১ রানে অলআউট হয়। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ফার্নান্দো চারটি উইকেট নেন, আর হাসান মুরাদ তিনটি উইকেটের অবদান রাখেন।
আগে ব্যাটিং করে রাজশাহী ভালো শুরু পায়—সাহিবজাদা ও তানজিদ ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন। পাওয়ার প্লে পেরিয়ে গেলে তারা আক্রমণাত্মক খেলায় তাবড় প্রভাব ছড়ান; তানজিদ ২৯ বলে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। ওপেনিং জুটির সংগ্রহ ছিল ৮৩ রানের ওপর। পরে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ সেই জুটি ভাঙেন। কিয়ান উইলিয়মসন কিছুটা দ্রুত মারতে না পারলেও মাঝেমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ঝড় তোলেন তানজিদ। উইলিয়ামসন সংক্ষিপ্ত ইনিংস খেলেন।
তানজিদের সেঞ্চুরি ইতিহাসের পাতায় জায়গাও করে নিল—বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তিনি তৃতীয় ক্রিকেটার। এর আগে ২০১৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে তামিম ইকবাল ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তানজিদের এই ক্যারিয়ার-উপলক্ষ্যে একটি অন্য মাইলফলতিও এসেছে: বিপিএলে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা তালিকায় তানজিদ এখন দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন, তিনটি সেঞ্চুরি নিয়ে তিনি শান্ত, তাওহিদ হৃদয় ও তামিমকে পেছনে ফেলেছেন; কেবল ক্রিস গেইলের পাঁচটি সেঞ্চুরি এখনও তার ওপরে আছে।
রাজশাহীর সাজগোজের শেষ মুহূর্তে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ বলে ১১ এবং নিশাম ৬ বলে ৭ রানে ইনিংস শেষ করেন। তানজিদের সেঞ্চুরিতে রানের পুঁজি দাঁড়ায় ১৭৪।
টুর্নামেন্ট লিডারশিপকেও নতুন কোনো রূপ দেয়া হয়েছে: ইনিংসের শেষ বলে শান্তকে ফেরিয়ে তাসকিন আহমেদকে ছাড়িয়ে এবারের বিপিএলে সর্বোচ্চ ২৬ উইকেটের মালিক হয়েছেন শরিফুল ইসলাম—গত আসরে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নেন তাসকিন; এবারের সমান ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছেন শরিফুল।
চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানে হারিয়ে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স উজ্জ্বল একটি জয় থেকে ট্রফি জিতে নেয়—ফাইনালের প্রতিটি মুহূর্তে দলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং তানজিদের ধ্বংসাত্মক ইনিংসই ছিল মূল চালিকা শক্তি।

