ঢাকায় চলচ্চিত্রের উজ্জ্বল অধ্যায় সমৃদ্ধ করা অভিনেতা ও নৃত্যশিল্পী ইলিয়াস জাভেদ আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে সংগ্রাম করার পর আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৮২ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইলিয়াস জাভেদ দীর্ঘসময় নানা রোগে ভুগছিলেন; গত বছরের এপ্রিলে তিনি হাসপাতালে ছিলেও পরে বাড়িতেই চিকিৎসা চলছিল।
মৃত্যুকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমকে জাভেদের স্ত্রী ডলি চৌধুরী বলেন, ‘আজ সকালে তাঁর শারীরিক অবস্থা হঠাৎ এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, চিকিৎসক ও নর্সরা লাগাতার ব্যবস্থা নেওয়ার পরও আর রাখা সম্ভব হয়নি। নর্সরা এসে জানান তিনি সারা শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।’
১৯৪৪ সালে ব্রিটিশ ভারতের পেশাওয়ারে জন্ম নেওয়া ইলিয়াস জাভেদের আসল নাম রাজা মোহাম্মদ ইলিয়াস। পরিবার পরে পাঞ্জাবে চলে গেলেও পরবর্তী সময়ে তিনি ঢাকার চলচ্চিত্র অঙ্গনে আসে এবং সেখান থেকেই তার সাফল্য আর পরিচিতি গড়ে ওঠে।
নৃত্য পরিচালক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা এই গুণী শিল্পী ১৯৬৪ সালে উর্দু সিনেমা ‘নয়ি জীবেন্ডি’তে নায়ক হিসেবে রুপালি পর্দায় অভিষেক ঘটান। ১৯৬৬ সালে ‘পায়েল’ সিনেমার মাধ্যমে তিনি বড় প্ল্যাটফর্মে পরিচিতি পান; এই ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা এবং পরিচালক মুস্তাফিজই তাকে ‘জাভেদ’ নামে পরিচিত করান। এরপর একের পর এক ব্যবসাসফল ছবির মাধ্যমে তিনি দর্শকের মনে ‘ড্যান্সিং হিরো’ হিসেবে অটুট স্থান করে নেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি ১৯৮৪ সালে সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ডলি চৌধুরীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
জাভেদ অভিনয় করেছেন শতাধিক চলচ্চিত্রে, তার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছবি হলো: মালেকা বানু, নিশান, পাপী শত্রু, রক্ত শপথ, সাহেব বিবি গোলাম, কাজল রেখা, অনেক দিন আগে, আজও ভুলিনি, কঠোর, মা বাবা সন্তান, রাখাল রাজা, রসের বাইদানী, জীবন সঙ্গী ও আবদুল্লাহ।
সত্তর ও আশি দশকের দর্শকদের কাছে ইলিয়াস জাভেদ মানে ছিল ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো নৃত্যাভিনয় আর অ্যাকশনের অনবদ্য মিশ্রণ। আজ তার প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র一道 একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হয়েছে বলে অনেকে মনে করছেন। চলচ্চিত্র কর্মী ও ভক্ত-শ্রোতাদের তরফ থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হচ্ছে।

