ঢাকাঃ সোমবার, জানুয়ারি ২৬, ২০২৬
Jago Bangla 24
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • অর্থনীতি
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • অর্থনীতি
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
No Result
View All Result
Jago Bangla 24
No Result
View All Result

ট্রাম্পের শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে চীনের বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত

by স্টাফ রিপোর্টার
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬
in অর্থনীতি, অর্থনীতি
Share on FacebookShare on Twitter

২০২৬-এর শুরুতেই চীনের সাম্প্রতিক বাণিজ্য পরিসংখ্যান বিশ্ব অর্থনীতির মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ২০২৫ সাল জুড়ে শুল্কযুদ্ধের চাপ থাকা সত্ত্বেও চীনের রপ্তানি না কমে বেড়েছে এবং দেশটির বার্ষিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড—প্রায় 1.2 ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার—অন্তর্জাতিকভাবে নজির সৃষ্টি করেছে।

এই তথ্য প্রকাশিত হতেই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ও ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো ঈশ্বর প্রসাদ। তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসে মন্তব্য করেছেন যে, মুক্ত বাণিজ্য রক্ষার দিক থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত শুল্কের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে চীনের এত বড় বাণিজ্য উদ্বৃত্ত। তার যুক্তি—চীনের সস্তা পণ্য শুধু উন্নত দেশগুলোর শিল্পকে নয়, নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোর শিল্পকেও প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়া কঠিন করে তুলছে; এতে বিশ্ব বাণিজ্যের নিয়ম-নীতি ভঙ্গের ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের সাবেক প্রধান সম্পাদক হু সিজিন সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এই উদ্বৃত্ত ওয়াশিংটনের অভিজাত শ্রেণিকে আতঙ্কিত করেছে, কারণ চীনের অর্থনীতি অত্যন্ত স্থিতিস্থাপক এবং কোনো বাণিজ্য যুদ্ধ দিয়েই সহজে দমন করা যায় না। হু সিজিন আরও জানান যে, চীনের পণ্য রপ্তানি জোর করে বা বাধ্য করে নয়—এগুলো বাজারে প্রতিযোগিতায় জিতেছে সততা, সাশ্রয়ী মূল্য ও শ্রমঘন উৎপাদনের কারণে।

এই রেকর্ড উদ্বৃত্তের পেছনে মূল কারণগুলো স্পষ্ট: শক্তিশালী রপ্তানি প্রবাহ আর দুর্বল আমদানি। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি প্রায় ২০% কমলেও আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, আসিয়ান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে—আফ্রিকায় রপ্তানি বেড়েছে রেকর্ড ২৫.৮%। একদিকে বিশ্বব্যাপী চাহিদা স্থিতিশীল থাকার পাশাপাশি ইউয়ানের দুর্বলতা ও চীনের মুদ্রাসঙ্কোচন চীনা পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্যে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা দিয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৫ সালে চীনের মোট আমদানি মাত্র 0.5% বাড়ে—রপ্তানির 6.1% বৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। অভ্যন্তরীণ চাহিদার অনির্দিষ্টতা, ভোক্তা গৃহীত ব্যয় কমে যাওয়া ও বিনিয়োগে মন্দা আমদানির মন্থরতার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২৫ সালের দ্বিতীয়ার্ধে ভোক্তা পণ্যের খুচরা বিক্রির বৃদ্ধির হার ধারাবাহিকভাবে কমে আসে; বিশেষ করে নভেম্বর মাসে বৃদ্ধি ছিল কেবল 1.3%, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। আবাসন খাতের সংকটও বিনিয়োগকে চাপে রেখেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে ১৯৯৮ সালে তথ্য সংগ্রহ শুরু করার পর প্রথমবারের মতো বার্ষিক বিনিয়োগে পতন আসতে পারে।

আরেকটি উদ্বেগজনক সূচক—২০২৫ সালের সাত মাহে চীনের মাসিক বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রতিটি মাসেই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল; তুলনায় ২০২৪ সালে এটি কেবল একবার ঘটেছিল। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে, শক্তিশালী রপ্তানি ও কাঁচামাল-নির্ভর আমদানির কমতি কোনো সংক্ষিপ্ত কার্যকর নয়, বরং কাঠামোগত প্রবণতা।

এই অবস্থার সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই রয়েছে। শক্তিশালী রপ্তানি চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করছে এবং বিশ্বে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে—বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর দামের চাপ কমাতে চীনা পণ্যের বড় ভুমিকা থাকতে পারে। কিন্তু উদ্বৃত্তের ধারাবাহিকতা চীনের ওপর রপ্তানিমুখী অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নির্দেশ করছে। যদি অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ও বিনিয়োগ বাড়ানো না যায়, তাহলে চীন এমন এক চক্রে আটকে যেতে পারে যেখানে বৈশ্বিক চাহিদা ভালো থাকা সত্ত্বেও দেশীয় চাহিদা দুর্বল থেকে যায়। আন্তর্জাতিক স্তরেও এ ধরনের ভারসাম্যহীনতা বাণিজ্য অংশীদারদের ক্ষুব্ধ করতে পারে এবং চীনা পণ্যের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বা শুল্ক আরোপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন যে, যদি চীন রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি মডেলে অনড় থাকে, তবে তা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও বলছেন, যদি বেইজিং ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক ভারসাম্য নিরসনে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইইউকে চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে হতে পারে।

বেইজিং নিজেও নীরবে বসে নেই। গুয়াংডং পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং বলেছেন, আমদানির পরিধি বাড়ানো এবং আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সমতা কায়েম করা জরুরি। বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওও ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলতি বছরে বাণিজ্য মেলা ও লক্ষ্যভিত্তিক ক্রয়ের মাধ্যমে আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি চীন শুরু করেছে কিছু নীতিগত বদলে—২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ফটোভোলটাইক পণ্যের ওপর রপ্তানি ভ্যাট রিবেট বাতিল করা হচ্ছে; ব্যাটারি পণ্যের ক্ষেত্রে রিবেটের হারও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হবে। তদুপরি, চীন ও ইইউয়ের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনের শুল্ক নিয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে, যেখানে চীনা নির্মাতারা অ্যান্টি-সাবসিডি শুল্কের বদলে ন্যূনতম মূল্য বজায় রাখার শর্তে ব্যবসা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকেই যায়—এই বিশাল বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কি চীনের ও বিশ্বের জন্য আশীর্বাদ, নাকি অভিশাপ? উত্তর নির্ভর করছে—রপ্তানি থেকে অর্জিত আয় কি চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে ফিরছে, তা কি আমদানিকে ত্বরান্বিত করছে, এবং বাজারগুলো কীভাবে আরও উন্মুক্ত হচ্ছে। বাস্তবে উত্তর সম্ভবত একদম ধ্রুব নয়: হু সিজিনের তুলনায় অতটা আশাব্যঞ্জক নাও হতে পারে, আর প্রসাদের মতো আতঙ্কিত হওয়ার কথাও সবক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে চীনের নীতিতে—কি করে তারা আমদানি বাড়ায়, অভ্যন্তরীণ চাহিদি জাগায় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে। সূত্র: বিজনেস টাইমস।

Next Post

তারেক রহমান: বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে

Jago Bangla 24

Jago Bangla 24 is a leading Bangladeshi Online News Portal, covering various topics and analysis from a complete neutral perspective.

নেপথ্যে যারা

সম্পাদকঃ শেখ শহীদ আলী সেরনিয়াবাত
সহ সম্পাদকঃ বাতেন আহমেদ
প্রকাশকঃ আহমেদ রুবেল

যোগাযোগ

সম্পাদনা বিভাগঃ [email protected]
সংবাদ বিভাগঃ  [email protected]
বিপণন বিভাগঃ [email protected]

© 2008 - 2006 Jago Bangla 24. - All rights reserved by Jago Bangla 24..

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • জাতীয়
  • অর্থনীতি
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন

© 2008 - 2006 Jago Bangla 24. - All rights reserved by Jago Bangla 24..