কেন্দ্রীয় মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যের সালামাঙ্কা শহরের একটি ফুটবল মাঠে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রবিবার বিকেলে লোমা দে ফ্লোরেস এলাকায় মাঠে একটি ম্যাচ চলার সময় বা ম্যাচ শেষের পরই হামলা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
সালামাঙ্কার মেয়র সিজার প্রিয়েতো গালার্দো জানান, ম্যাচ শেষ হওয়ার সময় সশস্ত্র চার-পাঁচজন মাঠে ঢুকে খেলোয়াড় ও দর্শকদের লক্ষ্য করে বাঁধা না দিয়ে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই ১০ জন মারা যান; পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক জনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে একজন নারী ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে।
হামলার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিলে স্থানীয় পাবলিক সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে। ন্যাশনাল গার্ড, ন্যাশনাল ডিফেন্স সেক্রেটারিয়েট (সেদেনা) এবং স্টেট পাবলিক সিকিউরিটি ফোর্সেস (এফএসপিই)–র সঙ্গে সমন্বয়ে অভিযানের মাধ্যমে হামলাকারীদের ধরার চেষ্টা চলছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতর (এফজিই) ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক ও ফেডারেল কোর্ট রুটিন নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
সালামাঙ্কার মেয়র এই ঘটনার ওপর উদ্বেগ জানিয়ে এটিকে শহরে বাড়তে থাকা ‘অপরাধপ্রবণতার ঢেউ’-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেইনবাউমের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি বলেন, কিছু অপরাধী গোষ্ঠী কর্তৃপক্ষকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু তারা তা সফল করবে না।
ইতোমধ্যে স্থানীয় নেতারা আহতদের দ্রুত চিকিৎসা ও পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার কাজ চালাচ্ছেন। পুলিশ হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত ত্বরান্বিত করেছে।
মেক্সিকো ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক। দেশটির তিনটি শহর — মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা ও মন্টেরেই — ১৩টি ম্যাচ আয়োজন করবে। তবে সালামাঙ্কা শহরে কোনো ম্যাচ নির্ধারিত ছিল না।
পটভূমিতে উল্লেখ্য, গত বছর গুয়ানাহুয়াতো অঙ্গরাজ্যেই সর্বোচ্চ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছিল। সেখানে স্থানীয় অপরাধী চক্র সান্তা রোসা দে লিমা ও শক্তিশালী জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে।
এদিকে মেক্সিকো সরকার দাবি করেছে, ২০২৫ সালে দেশে হত্যার হার প্রতি এক লাখ মানুষে ১৭.৫ জনে নেমে এসেছে, যা ২০১৬ সালের পরে সর্বনিম্ন। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন এই পরিসংখ্যান পুরো দেশের সহিংসতার চিত্র সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করতে নাও পারে।

