নির্বাচন যদি ২০১৪, ২০১৮ বা ২০২৪ সালের মতো পুনরাবৃত্তিমূলকভাবে হয়, তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না; এমন ধরণের নির্বাচন দেশের মানুষ মেনে নেবে না — মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। মঙ্গলবার মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাঃ তাহের সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি অন্যায়ভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, সেটা দুঃস্বপ্নের মতোই থেকে যাবে। জনগণ তা আবারও প্রতিরোধ করবে এবং আন্দোলনের মাধ্যমে সেই শক্তিকে পতিত করবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ৪৩ শতাংশ এবং সদস্যসংখ্যা দেড় কোটির কম নয়। রাজনৈতিক দলসমূহে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার আরপিওর বিধান পূরণ করতে সক্ষম একমাত্র দলই তারা। এরপরও অনেকে অপপ্রচারের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীকে নারী বিষয়ে অগ্রাহ্য প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন; যা বাস্তবে সঠিক নয় — এমনটাই তার মন্তব্য।
নির্বাচন যে অত্যন্ত নিকটে এসেছে বলেই উল্লেখ করে ডাঃ তাহের বলেন, এই নির্বাচনে জামায়াতের নারী সদস্যরা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা গ্রহন করছেন। পুরুষ কর্মীদের পাশাপাশি নারীরাও বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং ভোট চাইছেন।
দলের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে সারাদেশে নারী ভোটাররাই জামায়াতকে বেশি সমর্থন দেবেন বলে তাদের মূল্যায়ন। কারণ, মহিলারা শান্তিপ্রিয় এবং বিশৃঙ্খলা ও উগ্রতাকে পছন্দ করেন না। নিজের নির্বাচনী এলাকা চৌদ্দগ্রামেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নারীদের ভোট পুরুষদের চেয়ে বেশি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।
তাহের অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা জামায়াতের নারীরা যতটা সক্রিয় হয়েছে তা sehen অনিশ্চিত হয়ে তাদের কর্মক্ষমতাকে থামাতে নারীদের ওপর আক্রমণ ও হেনস্তা শুরু করেছে। ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে; বক্তৃতায় জিহ্বা কেটে ফেলার হুমকি এবং ‘‘জামায়াতকে ভোট দিলে হাত নিয়ে যাবে’’ জাতীয় ধরনের ভয়ভীতি ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, নারীরা আমাদের মা, বোন ও কন্যা — তাদের সম্মান রক্ষা সব দাবি-দাওয়া ও রাজনৈতিক দলগুলোর হাস্যকল্প হওয়া উচিত নয়। যারা নারী অধিকার বলে চিৎকার করেন, তারাই এখন রাজনৈতিক কারণে নারীদের ওপর আক্রমণ করছেন — এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
নির্বাচন কমিশন যে নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে, সেটাও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। ডাঃ তাহের বলেন, যদি নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয়, তার ফলদেশ-বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তা জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকার ও নেতিবাচক দিকে নিয়ে যাবে।
তিনি সতর্ক করেন যে শুধু রাজনৈতিক দলগুলো নয়, সরকারেরও এখানে বড় ভূমিকা আছে; যদি জোর করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, তার পরিণতি আগের চেয়ে আরও ভয়াবহ হতে পারে। জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দলকেই দায়িত্বশীল আচরণ করে সুষ্ঠু ও নির্ভেজাল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে, নতুবা দেশের ক্ষতি হবে।
ডাঃ তাহের আরও জানান, বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে নারী কর্মীরা আহত ও প্রতিবন্ধিতার মুখে পড়েছেন; অনেকেই দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে পারেননি। কেন্দ্র দখল, হুমকি-ধামকি ও মারধরের মতো ঘটনা নির্বাচনকালীন বেশ কিছুস্থানে ঘটছে। তার মতে, জনপ্রিয়তাহীন প্রতিপক্ষরা কেন্দ্র দখল করে জেতার কৌশল বেছে নিচ্ছে এবং এধরণের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে বিজয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে।
শেষে তিনি পুনরায় সবাইকে আহ্বান জানান—নারী হোক বা পুরুষ, সবারই দায়িত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার। সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মা’ছুম ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

