ভারতে ‘গোমূত্র গবেষক’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিকে এবার পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা আবারও দেশের নামকরা বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরই নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে ভারতের আইআইটি মাদ্রাজের পরিচালক ভি কামাকোটি নামের এই গবেষকের ওপর। শিক্ষাবিদ ও গবেষণার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই পদ্মশ্রী দেওয়া হলে অনেকের মধ্যে সন্তুষ্টি হলেও, কেরালা কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে চরম বিতর্ক শুরু করে। তারা বলেছে, গোমূত্রের উপকারিতা নিয়ে যার মন্তব্য ছিল, সেটি এখন কেন্দ্রবিন্দুতে। গত বছর ভি কামাকোটি দাবি করেছিলেন যে, গোমূত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে এবং এটি বিভিন্ন রোগে উপকারী হতে পারে। এই মন্তব্যের জন্য তখন দেশজুড়ে তর্ক-বিতর্কের ঝড় ওঠে। এর জবাবে শ্রীধর ভেম্বু, যিনি আইআইটির একজন প্রখ্যাত গবেষক ও বর্তমানে দি পোচামপল্লী গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, বলেন যে এই সম্মান তাঁর যোগ্য। তিনি আরও বলছেন, গোমূত্র ও গোমূত্রের মাইক্রোবায়োম নিয়ে যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক গবেষণার সম্ভাবনা রয়েছে, যা কেবল ‘ঔপনিবেশিক মানসিকতা’ থেকে আলাদা। তিনি উল্লেখ করেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ভি কামাকোটি ইতিমধ্যেই মাইক্রোপ্রসেসর ডিজাইনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তবে, কেরালা কংগ্রেস এ ভাবনার বিপরীতভাবে প্রশ্ন তোলে—শুধু গরুর গোবর ও গোমূত্র কেনই বা গবেষণার মূল বিষয়? অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রেও কি এ ধরনের গবেষণা হয় না? তারা মধ্যপ্রদেশে পরিচালিত একটি সরকারি প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে অর্থের অপচয় ও অনিয়মের অভিযোগও তোলে। সর্বশেষে, কেরালা কংগ্রেস সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়—যদি গোমূত্রের উপকারিতা সত্যিই এত বিশাল হয়, তবে ভেম্বু নিজে কেন সেই গবেষণায় বিনিয়োগ করছেন না? যদি এটি ক্যানসারসহ অন্যান্য রোগের علاج করতে পারে, তবে এটি নিঃসন্দেহে ভারতের জন্য বড় এক অবদান হবে বলে তারা মত প্রকাশ করে। এই বিতর্ক সাধারণ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও রাজনীতির সীমারেখাকে আবারও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। উপরন্তু সামাজিক মাধ্যমে এই বিষয় নিয়ে এখন তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

