পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখনও নিশ্চিত নয় তারা 2026 সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে কি না। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আগামী শুক্রবার (30 জানুয়ারি) বা সোমবার (2 ফেব্রুয়ারি)।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। পাকিস্তান এটিকে অন্যায় ও দ্বিচারিতার নীতি বলে মনে করে এবং এর প্রতিবাদে পাকিস্তান খানিকটা সমর্থন দিয়েছে।
এদিকে, ‘টেলিকম এশিয়া স্পোর্ট’ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তান এখন ‘অপেক্ষার খেলা’ খেলছে। তারা চাইছে, প্রথম দুটো ম্যাচে (৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ও ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে) জিতে সুপার সেইক্স নিশ্চিত করবে। এরপর তারা ভারতের ম্যাচটি (১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বো) বয়কট করার পরিকল্পনা করছে।
যদি পাকিস্তান প্রথম দুটো ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে তারা ভারত ম্যাচ থেকে বিরত থাকতে পারে, যা প্রায় নিশ্চিত প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার এক পথ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে তারা পুরো টুর্নামেন্ট থেকে বাদ না পড়ে কিছু আঞ্চলিক প্রতিবাদ ও সমর্থন চালিয়ে যেতে পারবে।
এছাড়াও, পিসিবি আইসিসিকে চিঠি দিয়ে বিশ্বকাপের চলাকালীন প্রতিবাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করতে পারে, যার মধ্যে একটি হল কালো আর্মব্যান্ড পরা বা ভারতের বিরুদ্ধে খেলায় বয়কট। এই প্রতিবাদগুলো বাংলাদেশের সমর্থন জানাতে উৎসর্গ করারও চিন্তা রয়েছে।
গত সোমবার, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সব বিকল্প খোলা রেখেই সমাধান খোঁজা হবে এবং সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে। মহসিন নকভি বলেন, সরকার যা বলবে, সেই অনুযায়ী চলা হবে।
অন্যদিকে, আইসিসি কঠোর সতর্ক সংকেত দিয়ে বলেছে, পাকিস্তানের যদি বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচ বা পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করে, তাহলে তাদের সাসপেনশন, অর্থদণ্ড বা আরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। বিশেষ করে, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ অতিরিক্ত ব্রোডকাস্টের মাধ্যমে অর্থনৈতিক লাভের বিষয়, যেখানে ক্ষতিপূরণের দাবি উঠতে পারে।
আইসিসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি ততটা বেশি নয়; তারা বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা হয়েছে। তবে, পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে তারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। কিছু বিশেষজ্ঞ বলছেন, পাকিস্তানের সরাসরি সম্পর্ক নেই এসব ঘটনার সঙ্গে, কিন্তু পরিস্থিতি জটিল ও ঝুলে আছে।
একদিকে, পাকিস্তান যদি শুধুমাত্র ভারত ম্যাচ বয়কট করে, তাহলে বড় ধরনের শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে। কিন্তু পুরো টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়া ক্রিকেটের জন্য অন্যতম বড় ধাক্কা হবে। এখন সবকিছু সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীদের।

