ঢাকা-করাচি রুটে নন-স্টপ ফ্লাইট আগামীকাল ২৯ জানুয়ারি থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে। ট্রানজিট না থাকার ফলে যাত্রীদের সময় বাঁচবে এবং খরচও কমবে—বিমান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস প্রথম পর্যায়ে সপ্তাহে দুই দিন—বৃহস্পতিবার ও শনিবার—ঢাকা-করাচি-ঢাকা নন-স্টপ ফ্লাইট পরিচালনা করবে। প্রায় দেড় দশক পর পাকিস্তানে আবারও যাত্রীবাহী বিমানের অবতরণ ঘটছে, যা দুই দেশের আকাশপথ যোগাযোগে নতুন ধাক্কা যোগ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
এই রুটে ব্যবহার হবে ১৬২ আসনের বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ, যা ঢাকা থেকে করাচি পর্যন্ত প্রায় ১,৪৭১ মাইল পথ পাড়ি দেবে। বিমান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম ফ্লাইটের সব টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি আসনও বুক হয়ে গেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম বলেন, সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় যাত্রীরা তিন ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন এবং ট্রানজিটের ঝামেলা না থাকায় ভ্রমণ আরও সচ্ছন্দ ও নিরাপদ হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি কার্গো পরিবহনেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা ব্যবসা-বাণিজ্য ও অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করবে। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নন-স্টপ সংযোগ দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।
পটভূমি: নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছিল। ততদিন যাত্রীরা প্রায়ই দুবাই, দোহা বা অন্যান্য মধ্যপ্রাচ্যের ট্রানজিট হাব ব্যবহার করে ভ্রমণ করতেন, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন সরাসরি রুট চালু হলে রাউন্ড ট্রিপে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন ভাড়া হিসেবে ৫১ হাজার টাকার আশেপাশে যাতায়াত সম্ভব হতে পারে।
যাত্রী ও ব্যবসায়িকরা বিমানের অফিস বা ওয়েবসাইট থেকে শিডিউল, টিকিট এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জেনে নেবেন।

