আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ। তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই নির্বাচনে প্রার্থী, নির্বাচনি বা পোলিং এজেন্ট, কর্মী বা সমর্থকসহ কেউই কোনও ব্যক্তির কাছ থেকে খাবার, পানীয় বা অন্য কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। বিষয়টি स्पष्ट করে তিনি বলেন, নির্বাচন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে এ ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তাহমিদা আহমদ এসব কথা বলেন। এই সভায় নির্বাচনের জন্য অনুষ্ঠিতব্য ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি ও কর্মাবলির পর্যালোচনা করা হয়। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দেশের বিভিন্ন জেলায় মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি ভোটকক্ষে মোট ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, তারা কঠোর প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন, যা নির্বাচন থেকে ৪ থেকে ৫ দিন আগে শেষ করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ভোটগ্রহণে যোগ্য ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ থাকে। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো ভোটের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ব্যালট পেপার ব্যবস্থাপনা, ভোট গণনা ও ফলাফলের সঠিক প্রেরণার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান।
তিনি নির্দেশ দেন, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ প্যানেল প্রস্তুত করতে হবে। তবে, কোথাও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাইবাছাই সাপেক্ষে বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া যাবে। তবে এই বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ ও নিয়ম মাফিক করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভোটগ্রহণের আগের দিন ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে আনুষ্ঠানিক প্রচার, এবং ভোটগ্রহণ হবেন ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সকল কর্মকর্তাকে এই সময়ের মধ্যে প্রশিক্ষণ শেষ করতে বলা হয়েছে, যাতে তাঁরা নির্বাচন আইনের নির্দেশনা, আচরণবিধি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখতে পারেন।

