প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সম্ভাব্য ছড়িয়ে পড়া রোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশেষ স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) স্বাস্থ্যমন্ত্রী জুলকেফলি আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা — বিশেষত ভারত ও বাংলাদেশ — যাত্রীদের ওপর নজরদারি জোরদার করা হবে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব আন্তর্জাতিক প্রবেশপথে বডি টেম্পারেচার পরিমাপের যন্ত্রগুলো সচল করা হয়েছে, যাতে যাত্রীদের মধ্যে নিপাহের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে জ্বর দ্রুত শনাক্ত করা যায়। মালয়েশিয়া ভারত ও বাংলাদেশকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রেখেছে এবং সেখান থেকে আসা যাত্রীদের টার্গেটেডভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে এদের জন্য আলাদা কোনো পথ বা রুট নির্ধারণ করা হয়নি; স্বাভাবিক অভিবর্তন প্রক্রিয়ার মধ্যেই নজরদারি করা হবে।
স্ক্রিনিং চলাকালীন যদি কারো শরীরে জ্বর বা কোনও সন্দেহজনক উপসর্গ ধরা পড়ে, তাকে সঙ্গে সঙ্গেই বিশেষ মেডিকেল টিমের কাছে পাঠিয়ে অতিরিক্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এই পদক্ষেপগুলো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা ও বৈশ্বিক ঝুঁকি পর্যালোচনার ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাগুলো আন্তর্জাতিক মানের এবং সময়োপযোগী থাকে।’
তিনি আরও জানান, দেশের সব প্রবেশপথে স্বাস্থ্য বিভাগ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তুতি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ভারতে সম্প্রতি নিপাহ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পর এশিয়ার অন্যান্য কয়েকটি দেশও তাদের বিমানবন্দর ও সীমান্তে অনুরূপ সতর্কতা বাড়িয়েছে। মালয়েশিয়ার এই পদক্ষেপও সেই প্রেক্ষাপটের অংশ, যাতে দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য বিস্তার প্রতিরোধ করা যায়।

