রাতভর অপেক্ষার পর অবশেষে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এল — জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০২৩-র বিজয়ীরা। প্রায় নয় মাস আগে যখন বিচারকরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন, তখন থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ জমা পড়ে। তবুও পুরস্কারের নাম ঘোষণা করা হয়েছে অনেক সময় পর। বৃহস্পতিবার তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়, মোট ২৮টি বিভাগে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।
প্রধান ফলাফলগুলোতে দেখা যায় যে রায়হান রাফীর ‘সুড়ঙ্গ’ সর্বোচ্চ আটটি বিভাগে পুরস্কার জিতে নিয়েছে। পরপর ছয়টি পুরস্কার পেয়েছে হিমেল আশরাফের ‘প্রিয়তমা’। আর খন্দকার সুমনের ‘সাঁতাও’ চলচ্চিত্রই প্রাপ্ত হলো সেরা সিনেমার খেতাব—এছাড়াও সে ছবির জন্য খন্দকার সুমন সেরা পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন এবং আইঅনুন নাহার পুতুল সেরা অভিনেত্রী।
এ বছর জীবনী সম্মাননা দেওয়া হয়েছে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও প্রখ্যাত চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতা আব্দুল লতিফ বাচ্চুকে। আর ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে সেরা অভিনেতা হয়েছেন আফরান নিশো (সুড়ঙ্গ), সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন আইনুন পুতুল (সাঁতাও)। খলচরিত্রে সেরা হয়েছেন আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন) এবং সেরা কৌতুক অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ)।
শিশুশিল্পীর ক্ষেত্রে মো: লিয়ন (আম কাঁঠালের ছুটি) ও আরিফ হাসান (আম কাঁঠালের ছুটি) পেয়েছেন আলাদা ও বিশেষ স্বীকৃতি। সঙ্গীত ও প্রযুক্তিগত বিভাগেও নানা ছবির কলাকুশলী স্বীকৃত হয়েছেন। নীচে পূর্ণতালিকা দেওয়া হলো:
আজীবন সম্মাননা: তারেক মাসুদ; আব্দুল লতিফ বাচ্চু
সেরা সিনেমা: সাঁতাও (পরিচালক: খন্দকার সুমন)
সেরা স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র: মরিয়ম (পরিচালক: চৈত্রালী সমদ্দার)
সেরা প্রামাণ্য চলচ্চিত্র: লীলাবতী নাগ: দ্য রেবেল (পরিচালক: এলিজা বিনতে এলাহী)
সেরা অভিনেতা: আফরান নিশো (সুড়ঙ্গ)
সেরা অভিনেত্রী: আইনুন পুতুল (সাঁতাও)
সেরা পার্শ্ব অভিনেতা: মনির আহাম্মেদ শাকিল (সুড়ঙ্গ)
সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী: নাজিয়া হক অর্শা (ওরা সাত জন)
সেরা খল অভিনেতা: আশীষ খন্দকার (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন)
সেরা কৌতুক অভিনেতা: শহীদুজ্জামান সেলিম (সুড়ঙ্গ)
সেরা শিশুশিল্পী: মো: লিয়ন (আম কাঁঠালের ছুটি)
শিশুশিল্পী শাখায় বিশেষ পুরস্কার: আরিফ হাসান আনাইরা খান (আম কাঁঠালের ছুটি)
সেরা সংগীত পরিচালক: ইমন চৌধুরী (অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন)
সেরা নৃত্য পরিচালক: হাবিবুর রহমান (লাল শাড়ি)
সেরা গায়ক: বালাম (গান: ‘ও প্রিয়তমা’, সিনেমা: প্রিয়তমা)
সেরা গায়িকা: অবন্তী দেব সিথি (গান: ‘গোটা পৃথিবীতে খুঁজো’, সিনেমা: সুড়ঙ্গ)
সেরা গীতিকার: সোমেস্বর অলি (গান: ‘ঈশ্বর’, সিনেমা: প্রিয়তমা)
সেরা সুরকার: প্রিন্স মাহমুদ (গান: ‘ঈশ্বর’, সিনেমা: প্রিয়তমা)
সেরা কাহিনিকার: ফারুক হোসেন (প্রিয়তমা)
সেরা চিত্রনাট্যকার: নিয়ামুল মুক্তা (রক্তজবা)
সেরা সংলাপ রচয়িতা: রায়হান রাফী ও সৈয়দ নাজিম উদ দৌলা (সুড়ঙ্গ)
সেরা সম্পাদক: সালাহ উদ্দিন আহমেদ বাবু (ওরা সাত জন)
সেরা শিল্প নির্দেশক: শহীদুল ইসলাম (সুড়ঙ্গ)
সেরা চিত্রগ্রাহক: সুমন কুমার সরকার (সুড়ঙ্গ)
সেরা শব্দগ্রাহক: সুজন মাহমুদ (সাঁতাও)
সেরা পোশাক ও সাজসজ্জা: বিথী আফরিন (সুড়ঙ্গ)
সেরা মেকআপম্যান: সবুজ (প্রিয়তমা)
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হলো যে বিভাগভিত্তিক আরও পুরস্কার রয়েছে, এবং পৃথক অনুষ্ঠানে বা মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য ঘোষণায় তাদের তুলে ধরা হবে। এই ফলাফলগুলোতে গত বছরের বিভিন্ন ধাঁচের চলচ্চিত্র ও শিল্পীদের প্রচেষ্টা ও বৈচিত্র্যের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে—অভিনয়, মিউজিক আর প্রযুক্তিগত দক্ষতা মিলিয়ে বাংলা সিনেমা বছরে নানা সফলতা পেয়েছে।

