বাংলাদেশে ত্রোদশতম জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা থেকে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টা পর্যন্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্টের ইমিগ্রেশন দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি, এই সময় দুই দেশের বন্দর দিয়ে সকল ধরনের আন্ডারনিং, আমদানি ও রপ্তানির কার্যক্রমও তিন দিন বন্ধ থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এই সিদ্ধান্ত সরকারের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো, নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল এই তিন দিনে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। বেনাপোল চেকপোস্টের পুলিশ ও ইমিগ্রেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সংক্রান্ত একটি আদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেনাপোল-পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রীরা চলাচল করতে পারবেন না, তবে শুক্রবার ভোর ৬টার পর থেকে পুনরায় সাধারণ যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক হতে থাকবে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন জরুরি ও অসুস্থ যাত্রী ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে এই সময়ে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর প্রথমবারের মতো নির্বাচন দিন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন জানিয়েছেন, এই নির্দেশনা একটি চিঠির মাধ্যমে তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং নির্দেশ অনুসারে বৃহস্পতিবার থেকে এই সময়ে দু’দেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে, শনিবার সকাল থেকে আবার নিরাপদে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মারাত্মক অসুস্থ ও জরুরি পরিস্থিতিতে চলাচলে শর্ত থাকলেও, এই সময়ে যাত্রীরা বেরোতে পারবেন না।
এছাড়া, স্বজন বা জরুরি কাজে আসা যাত্রীদের জন্যও এই সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য। বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনের কারণে আগামী তিন দিন বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমও বন্ধ থাকবে। এই সময়ে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকলেও, শনিবার থেকে আবার স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হবে।
সাধারণত: নির্বাচন ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। তবে নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে এই সব কার্যক্রম আবার পূর্ণরূপে চালু হবে বলে জানা গেছে।

