জুলাই মাসে গঠিত গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন তাইমের মৃত্যু ঘটে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের মানুষের মধ্যে প্রবল ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকা তাইমকে পুলিশ অত্যন্ত কাছ থেকে আবারও গুলি করছে, যা ঘটনাটির জোড়ালো প্রতিবাদ ও মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগের কারণ হয়।
আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি), আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হিসেবে সাবেক ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান ও যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানসহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ মামলার সূচনা ভাষণ ও পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন নির্ধারিত হয়েছে।
এছাড়া, একই দিনে ট্রাইব্যুনালে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হক ও উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দেন আহত আন্দোলনের কর্মী ইমরান হোসেন। তিনি তাঁর ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন, নিজের চোখে দেখেছেন কী ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল।
অপরদিকে, রাজধানীর জাহাজবাড়িতে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ জনকে হত্যার অভিযোগে পলাতক থাকা শেখ হাসিনাসহ ছয় আসামির আত্মসমর্পণের জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে।
এছাড়া, কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার মামলার সুযোগে নিজের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন অভিযুক্ত হাসানুল হক ইনুর পক্ষের সাফাই সাক্ষী। এই মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ন্যায়শাস্তি নিশ্চিতের প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট আদালত।

