মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে জামালপুরের বকশীগঞ্জের বকশিগঞ্জ ইউনিয়নের বগারচর এলাকায় এক হৃদয়স্পর্শী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তারা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনে শাহাদতবরণকারী মহান শহীদদের স্মরণ করেন এবং ওই দিনটির গৌরবময় ইতিহাসের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এই অনুষ্ঠানে বক্তারা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত পরিচালনা করেন।
অভিনন্দন এই কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করতে দলের নেতাকর্মীরা ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। তবে এই প্রাণবন্ত মুহূর্তের সময় একদল চেয়ারম্যানের গোপনীয়তা রক্ষা করতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পতাকা উত্তোলন ও মোনাজাতের এই আয়োজনের পরে, স্থানীয় জনগণের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ কাদির সাজু, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল করিম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী, তাঁতী লীগের যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নিয়ামত উল্লাহসহ বেশ কিছু নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। তবে পতাকা উত্তোলনের পর নেতাকর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিষয়টি। বকশিগঞ্জের গণঅধিকার পরিষদের শাখার আহ্বায়ক শাহরিয়ার আহমেদ সুমন তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘আজ ভোরে বগারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পতাকা উত্তোলন ও বিভিন্ন স্লোগান দেয়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য আওয়ামী রাজনীতি ও নেতাদের বিচার হওয়া জরুরি। গত এক বছরে বেশিরভাগ দোষী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছেন পুলিশ। তিনি যোগ করেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অপরাধীদের গ্রেফতার করা না হলে, ছাত্রজনতা জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বকশিগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেছে, কিন্তু নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। তিনি আরও জানান, তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ঘটনার পর শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

