দায়িত্বের শেষ পর্যায়ে জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সদ্য বিদায়ী সরকার। যদি এটি দেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে চুক্তিটি অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করেন। তবে, যদি দেশের স্বার্থের বিপরীতে হয়, তাহলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের মুহূর্তে তিনি এসব কথা বলেন। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা খাতে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, তা নিয়ে নতুন সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানিয়েছেন, জাপানের রাষ্ট্রদূত স্বয়ং বলেছেন, সরকার অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কী চুক্তি করেছে, তা দেখার পরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখব, অন্তর্বর্তী সরকার কী চুক্তি করেছে, সেটার ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত নেব। যদি দেশের স্বার্থে থাকে, তাহলে চুক্তি চালিয়ে যেতে পারে। আর যদি দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধ হয়, তবে বিবেচনা করে দেখব।’ তিনি সংযোজন করেন, ‘আমরা এখনো জানি না, অন্তর্বর্তী সরকার আমাদের জন্য কী রেখে গেছে। এজন্য এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়।’
জাপানের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি আমি পরিষ্কার ভাবে তুলে ধরেছি। চুক্তি যেন সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে, সেটাও বলেছি।’ তিনি আরও জানিয়ে দেন, জাপান বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানোতে সহায়তা করবে। তিনি বলেন, ‘দক্ষ শ্রমিক সুবিধার্থে আমরা আলোচনা করেছি।’
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ইন্দো-প্যাসিফিক নীতি, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, মাতারবাড়ি প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদি আমিন (প্রতিমন্ত্রীর সমমান), পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া।

