লন্ডন পুলিশ সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে সরকারি পদে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করেছে। তাকে এই গ্রেফতারির মধ্যে রয়েছে গভীর সম্পর্কের সংশ্লেষ যেনো যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তাতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে যুক্তরাজ্যে। খবর রয়টার্সের।
গত সেপ্টেম্বরে ম্যান্ডেলসনকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রকাশ পায়, তার এবং এপস্টেইনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের গভীরতা এবং দাপট। এপস্টেইনের সঙ্গে তার কাছাকাছি সম্পর্কের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর, ব্রিটিশ সরকার এই পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেয়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে, ব্রিটিশ সরকার এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের যোগাযোগের তথ্য দেশের গোপন নথির সঙ্গে সম্পর্কিত উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়। এরই ফলস্বরূপ, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করে।
লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, সরকারের একজন সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে ৭২ বছর বয়সি এই ব্যক্তিকে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানুয়ারির শেষে মার্কিন বিচার বিভাগ দ্বারা প্রকাশিত ই-মেইলগুলোর মাধ্যমে জানা যায়, ম্যান্ডেলসন ও এপস্টেইনের মধ্যে ছিল অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এর সরকারে থাকা অবস্থায়, এপস্টেইনের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করেছিলেন তিনি।
চলতি মাসের মধ্যে, তিনি স্টারমার লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন এবং পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের সদস্যপদ ছেড়ে দেন। অতীতে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য তিনি গভীরভাবে অনুতপ্ত বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে, এপস্টেইনের ফাইলসের সর্বশেষ কিস্তিতে প্রকাশিত তথ্য নিয়ে তিনি এখনো প্রকাশ্যে কোন কথা বলেননি।
এদিকে, গত সপ্তাহে রাজা দ্বিতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুককে এপস্টেইনের সঙ্গে গোপন নথি পাঠানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়, যা আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

