মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধবিমানের মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাত্রা শুরু হয়েছে। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটিতে কয়েকদিন অবস্থান করার পর আজ, মঙ্গলবার, এই যুদ্ধবিমানের المجموعة তাদের গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গেছে, যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ারফোর্সের লেকেনহেথ বিমান ঘাঁটিতে থেকে এফ-২২ স্টিলথ যুদ্ধে বিমানের পাশাপাশি কেসি-৪৬ রিফুয়েলার বিমানও উড্ডয়ন করছে। গত সপ্তাহে এই বিমানগুলো সেখানে পৌঁছে এবং কয়েক দিন অবস্থান করে। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট বলছে, রিফুয়েলার বিমানের কিছু সমস্যার কারণে এগুলো সাময়িকভাবে এখানে অবতরণ করে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহৎ এক সামরিক বহর জড়ো করেছে যেখানে রয়েছে রণতরীসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ। অতি আধুনিক এফ-২২, এফ-৩৫, এফ-১৫ ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমানেও এই বহরে যোগ দেয়া হয়েছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে আকাশে উতরেছে, যেখানে জ্বালানি সরবরাহের জন্য অনেক রিফুয়েলার বিমানও দেখা গেছে। এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে এই যুদ্ধবিমান ও বহরগুলো ধীরে ধীরে অঞ্চলটিতে প্রবেশ শুরু করে। এদের সঙ্গে জ্বালানি ট্যাংকার এবং কয়েকশো কার্গো বিমানও এই অঞ্চলে উড়ে গেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সুদা বে নৌঘাঁটিতে এসে পৌঁছেছে। বর্তমানে এটি ইরান থেকে মাত্র আড়াই হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। গত কয়েকদিন ধরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় টেনে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ইরানকে শর্ত মানানোর জন্য চাপ বাড়াচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছে পরমাণু কর্মসূচি বাতিল, ক্ষুদ্র বা কম রেঞ্জের মিসাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং হিজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনগুলোকে আর সহায়তা না করতে দেওয়া। ট্রাম্প বারংবার হুমকি দিয়েছেন, যদি ইরান এই শর্তগুলো মানতে অস্বীক SAY করে, তাহলে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এরই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে পাশাপাশি রণতরী ও যুদ্ধজাহাজের বিশাল একটি বহর জড়ো করছে, যেখানে ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডের মতো আধুনিক যুদ্ধজাহাজও উপস্থিত। এই পুরো পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে আন্তর্জাতিক জোট ও সামরিক শক্তির চাপে তীব্র হয়ে উঠছে।

