ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের পৈত্রিক গ্রামে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুম হত্যার মূল অভিযুক্ত আবু তাহেরকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুষ্টিয়া শহরে তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের শফি উদ্দীন নামে এক ব্যক্তির ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আবু তাহের একজন সিগারেট কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধি এবং তার মাদকাসক্তি রয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই শিশু হত্যার অন্যতম মূল আসামির গ্রেফতারি নিশ্চিত করে। এএসপি মাহফুজুর রহমান বলেন, গত বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) শিশুটির নিখোঁজ সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করে। পরের দিন, یعنی বৃহস্পতিবার, বাদুরগাছা গ্রামের একটি সেফটি ট্যাংক থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকারীদের সনাক্তকরণে তৎপরতা চালিয়ে আরও দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জানা যায়, আবু তাহের কুষ্টিয়ায় তার ভায়ের বাসায় অবস্থান করছে, যেখানে তাকে কুষ্টিয়া পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবু তাহের দাবি করে, ঘটনার দিন শিশুটিকে চিপস ও জুসের লোভ দেখিয়ে ঘরে নিয়ে যায়। এরপর শারীরিক নির্যাতনের শিকার করে। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে তাকে লুঙ্গি দিয়ে মুখ চেপে ধরে। মুখ চেপে ধরার এক পর্যায়ে শিশুটি মারা যায়। এরপর রাতের অন্ধকারে শিশুটিকে একটি বস্তায় ভরে পাশের স্কুলের সেফটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি ও এই শিশু হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বাদুরগাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি বুধবার দুপুর দুইটার দিকে নিখোঁজ হয়। তার পরিবার বন্দরবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া থাকেন। নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম একজন স্থানীয় দর্জির কর্মচারী এবং মা হালিমা খাতুন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েব ফাউন্ডেশনে কাজ করেন।

