কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের উইন্ডসরে ভারতীয় বংশোদ্ভূত জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবার ন্যান্সি গ্রেওয়াল (৪৫) কে ছুরিকাঘাত করে আহত করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে টড লেনের কাছে রক্তে লোত-পোত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় পুলিশ ও প্যারামেডিকরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ন্যান্সির মৃত্যু হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই ঘটনাকে ‘‘বিচ্ছিন্ন’’ হামলা হিসেবে উল্লেখ করলেও ঘটনার নেপথ্য সন্ধানের জন্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে কানাডা স্ট্রিট ও বিশপ স্ট্রিটের দু’টি বাড়ি সিল করে রাখা হয়েছে।
ন্যান্সির নিহতের ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে নানা অভিযোগ তোলেন। তার মা শিন্দরপল কৌর সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে ন্যান্সিকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছিল এবং কয়েক মাস আগে তার বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি স্থানীয় একটি গুরুদ্বারের এক ব্যক্তিসহ মোট তিন জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন এবং বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে এক সন্দেহভাজনকে শনাক্তের পর থেকেই তার মেয়েকে ভয় দেখানো হচ্ছিল।
পুলিশ বলেছে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনো সম্ভাব্য সংঘবদ্ধতার প্রমাণ দেখলে কঠোরভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্ত কর্মকর্তারা সিসিটিভি ফুটেজ, ফোন রেকর্ড ও সন্দেহভাজনদের গতিবিধি যাচাই করছেন।
ন্যান্সি গ্রেওয়াল পাঞ্জাবের জলমধর (জলন্ধর) জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্টভাষী মতামতের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি খালিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কড়া সমালোচক ছিলেন এবং তার কন্টেন্টে মূলত খালিস্তান বিরোধী বক্তব্য, জেলবন্দি নেতাদের সমালোচনা এবং ভারতের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আলোচনা থাকত। তিনি বিশেষ করে কিছু নেতৃত্ব—জেলবন্দি সাংসদ অমৃতপাল সিং, শিরোমণি আকালি দলের নেতাদের মতো ব্যক্তিদের সমালোচনা করতেন।
স্থানীয় কমিউনিটি ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ন্যান্সির নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তদন্তকারীরা দ্রুত সত্য উদঘাটন করে দোষীদের সনাক্ত ও শাস্তি নিশ্চিতের কথা জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার আরও বিস্তৃত বিবরণ জানাতে শুরু করেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

