অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন মুখোমুখি স্বাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াতের মাহসচিব মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বর্তমান জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াত ইসলাম। আপনি পার্লামেন্টে যথেষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাননি, এটাই দর্শাচ্ছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকৃত চিত্র। তিনি বলেন, এই সত্য প্রমাণিত হয় আপনারা আমাদের মেজরিটি নিতে পারেননি। আপনাদের সঙ্গে থাকার নাম ও তাদের পরিচিতি প্রকাশ করুন।
শনিবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা, রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে, আমাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যাপক কারচুপি হয়েছিল। ভোটের দিন শুরু থেকেই দৃষ্টি ছিল প্রতারণাপূর্ণ। ভোটের দৃশ্যমান উৎসবের মধ্যেও, রাত ১০টার দিকে ভোট গণনাকার্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ধীরে ধীরে জামায়াতের বিজয়ের সম্ভাবনা কমে যায়, এবং পরবর্তীতে ফলাফল বিপরীতমুখী হয়।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রিজওয়ানা হাসান অতীতে উগ্রবাদী ও বিরোধী দলের বিষয়ে মন্তব্য করেছে। তিনি মিডিয়ায় দাবি করেছেন, উগ্রবাদীদের মূলধারায় আসতে কোনও বাধা নেই। তিনি বলেন, নারীবাদী কথাবার্তা বললেও, নারীর মর্যাদা আমাদের দেশে অনেক বেশি, যা কংক্রিট প্রমাণ। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত-শিবিরকে মবের সঙ্গে যুক্ত করে দ Toulouse in the article, and dismisses these as উসকানি।
গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, লন্ডন কনসপিরেসির হোতা ড. খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নির্দলীয় সরকারে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা থাকেন না, কিন্তু বর্তমান সরকার তাকে নিয়োগ দিয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে আরও অনেকের সম্পৃক্ততা রয়েছে। তিনি বলেন, এই সময় আপনি যে কাজগুলো করেছেন, তার জন্য আপনাকে অনেকের পুরস্কার দেওয়া হয়। দেশকে বিভ্রান্ত করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা সক্রিয়। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে আমাদের অনেক বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও, পরিকল্পনা করে ফলাফলকে কমিয়ে আনা হয়েছে, ফলাফলের পাতায় ছেলেখেলা করা হয়েছে এবং ফলাফল গণনায় আগে থেকেই ফলাফলের পত্রে সই নেওয়া হয়।
তিনি জানান, সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এড়াতে তিনি আহ্বান জানান। রিজওয়ানা হাসানের কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সমালোচনা করে বলেন, তার বক্তব্যের মাধ্যমে মন্দ উদ্দেশ্য প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সব কর্মসূচি সক্রিয়ভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অপকর্ম করে বিষয়গুলো ইসলামপন্থীদের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা তার বক্তব্যের জবাব দিয়ে জুডিসিয়াল তদন্তের দাবি জানাই। তিনি উল্লেখ করেন, মবের স্বীকার হলে জামায়াত-শিবিরকেই দায়ী করতে হবে, যা অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা সৃষ্টি করে।
এছাড়া, দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গুজবকে উড়িয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার শুরু থেকেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেতে পারতো। সিটি করপোরেশনে দলীয় লোক নিয়োগ ও সংসদে রদবদল কর্তৃত্ববাদের চেহারা প্রকাশ করে।
অন্তে, তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে বিএনপি এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে জনগণের ফুটো করার অপপ্রয়াস চলছে। তিনি সরকারের কাছে সংবিধান সংস্কার কৃত কমিটি গঠন ও শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।
