অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ স্বাক্ষী হিসেবে অভিহিত করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াত ইসলাম থাকলেও মূলত সরকার আসলে নির্বাচনে মেজরিটি পেতে পারেনি। এটাই হচ্ছে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকৃত চিত্র। এই অভিযোগ তিনি শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে ব্যক্ত করেন।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, রিজওয়ানা হাসানকে আমি একজন প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী হিসেবে চিহ্নিত করছি। তিনি তুলে ধরেছেন, নির্বাচন কেন্দ্রীক যে ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে, তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারেরা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে, কিন্তু ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশের প্রক্রিয়া পুরোপুরি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আওতায় ছিল। রাত রাতে বড় বড় কারচুপি ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ফলাফল পাল্টানো হয়েছে। এমনকি নির্বাচন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, তখনই জামায়াতের সম্ভাব্য বিজয়কে বাধা দেয়া হয়।
গোলোযোগে তিনি বলেন, জামায়াতের আমির বলেছেন, অতীতে যারা কারচুপি করত, তারা নিজেকে জীবনে মিথ্যা বলবে না; বরং সত্য যে বের হয়ে আসে, সেটাই প্রমাণ। তিনি রিজওয়ানার সাক্ষ্যপ্রমাণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এই স্বাক্ষী আমাদের মজবুত ভিত্তি দিয়ে দিচ্ছে। তিনি মিডিয়ায় বলছেন, একটি উগ্রবাদী দলে যুক্ত থাকার জন্য কেউ উগ্রবাদী নয়, যেন এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। তবে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট—ইসলাম কখনো চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না। নারীবাদী শক্তির কথাও তিনি তুলে ধরেন, যেখানে নারীর মর্যাদাকে উচ্চাভিলাষ করা হচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু উসকানিমূলক বক্তব্য জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে তৈরী করে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। জামায়াতের এই সেক্রেটারি বলেন, আপনারা আমাদের মেজরিটি পাওয়ার হোতা যদি ড. খলিলুর রহমান হন, তাহলে জানিয়ে দেন। তিনি আরও বলেন, নির্দলীয় সরকারের প্রতিষ্ঠা হলে তাদের এজেন্টরা একত্রে কাজ করে থাকেন। যেমন, শেষ ক্ষমতা গ্রহণের সময় বা এর আগে অনেকদূর এগিয়ে যেতে চেয়েও পারেনি বিএনপি। ক্ষমতার জন্য দেশের বিভিন্ন শক্তি তাদের পেকে দাঁড়িয়ে থাকলেও তারা তৎপর ছিল না। এসব গোয়েন্দা এবং ষড়যন্ত্রের পেছনে মূলত বিদেশি কনসার্টগুলো রয়েছে।
গোলোযোগে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের ফলাফল পরিকল্পিতভাবেই কমিয়ে আনার ও ফলাফলের সঙ্গে জালিয়াতি করার চেষ্টা হয়েছে। ফলাফলপত্রে আগে থেকেই ফলাফল পরিবর্তন ও সইয়ের জন্য এজেন্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি指出, বিচ্ছিন্নতাবাদী কিংবা সংঘাতের ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায় এমন পরিস্থিতি চান না। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এই স্বতন্ত্র উপদেষ্টা এক মন্দ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সমাজের স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অপকর্মের ঢাল হিসেবে ইসলামের নামে অপপ্রচার ও চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলেছে। এজন্য সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি রিজওয়ানার উদ্দেশে বলেন, আমরা আপনার বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাই এবং জুডিসিয়াল তদন্তের দাবি তুলেছি। উল্লেখ করেছেন, বিক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
অবশেষে, তিনি দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে এই গুজব ও বিভ্রান্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার শুরু থেকেই গণতন্ত্রের পথে চলতে পারত। তবে বিভিন্ন দলীয় পদক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণের নামে কর্তৃত্ববাদী মনোভাব দেখানো হচ্ছে। তিনি বিচারপতির অধীনে জুলাই সনদকে সরকারজনিত অপচেষ্টা বলে আখ্যায়িত করেন, যাতে দেশের সংবিধান ও গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে। তিনি সকলকে সংবিধান রক্ষা ও গণতন্ত্রের অগ্রগতির জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শেষ করেন।