বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) ঘোষণা করেছে, সোনার দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দামে ভালো মানের ২২ ক্যারেট সোনার ভরিপ্রতি দাম আবারও দুই লাখ ৬৫ হাজার টাকার নিচে নেমে এসেছে।
বাজুস সোমবার (০৯ মার্চ) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানায়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে তেজাবি (পিওর গোল্ড) সোনার দর কমে আসায় স্থানীয় বাজারেও মূল্যসমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার এক ভরির দাম নির্ধারিত হয়েছে ২,৬৪,৯৪৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার মূল্য রাখা হয়েছে ২,৫২,৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২,১৬,৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১,৭৬,৯৪৩ টাকা।
সোনার সঙ্গে রুপার দামও কমেছে। ২২ ক্যারেট হিসেবে প্রতি ভরির রুপার দাম নির্ধারিত হয়েছে ৬,৩৫৭ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৬,০৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের জন্য ৫,১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩,৯০৭ টাকা ধরা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল সংক্রান্ত উত্তেজনার কারণে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে আজ স্থানীয় বাজারে দাম আবার কমার লক্ষণ দেখা গেছে। বিশ্বজুড়ে স্বর্ণ ও রুপার দামের একটি নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম রয়েছে ৫,০৯০ ডলার; যা গতকালের তুলনায় (৫,১৭০ ডলার) কম। ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী ৩০ জানুয়ারিতে ছিল ৫,২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫,৫৫০ ডলারে উঠে গিয়েছিল।
এর আগে গত মাসের শেষের দিকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করলে দেশে মূল্যও রেকর্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। ২৯ জানুয়ারি সকালে বাজুস একবারে ভরিপ্রতি ১৬,২১৩ টাকা করে বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট সোনার দামকে ভরিপ্রতি ২,৮৬,০০০ টাকায় পৌঁছে দিয়েছিল—যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হিসেবে রেকর্ড হয়েছিল।
অতঃপর চলমান বিশ্ববাজার ও স্থানীয় চাহিদার ওঠানামার মধ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য বাজার এখন ধীরস্থিরতা ও মূল্যসঙ্কোচন যেন এক প্রকার স্বস্তির সংকেত দিচ্ছে।

