নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকার নতুন উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রকল্প চালু করছে। এই পরিকল্পনা মূলত নারী প্রধান পরিবারের জন্য, যার মাধ্যমে তারা স্বচ্ছতা ও সহজতর সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। পাইলট পর্যায়ে এই প্রকল্পের প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মোট ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী প্রধান পরিবার এই কার্ড পাবে।
আজ সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে (কড়াইল বস্তির কাছাকাছি) এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা। পরিবারের নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে এই কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা ও সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া হবে।
পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলা, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সরকারি দপ্তরগুলো কমিটি গঠন করেছে, যারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারগুলোর আর্থসামাজিক তথ্য সংগ্রহ করবেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরিবারগুলোকে দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অনুযায়ী শ্রেণিবদ্ধ করা হবে।
এ পর্যন্ত ৬৭ হাজার ৮৫৪ নারী পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে; এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের মধ্যে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি তথ্য সঠিক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী পরিবারের জন্য ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, এই পদ্ধতিতে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা মানবিক হস্তক্ষেপের সুযোগ একেবারে নেই, কারণ পুরো প্রক্রিয়া সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়।
প্রতিটি নির্বাচিত নারী পরিবার প্রধানকে একটি আধুনিক স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে, যা স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) প্রযুক্তিতে লিপিবদ্ধ। এই কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি যুক্ত থাকবে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী। এক পরিবারের একাধিক সদস্যের জন্য প্রয়োজন হলে আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত কার্ড দেওয়া হবে।
প্রধান নারী গৃহপ্রধান যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সুবিধা পান, তবে সেগুলো বাতিল হিসেবে বিবেচিত হবে; তবে পরিবারের বাকিরা অন্য ভাতা পেতে থাকবেন।
প্রথম পর্যায়ে নারীদের জন্য মাসিক ২,৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হবে, এবং ভবিষ্যতে খাদ্যসহায়তাও দিতে বোঝানো হয়েছে।
উভয় পাইলটিং পর্যায়ে কোনও পরিবারের সদস্য সরকারি কাজে বা চাকরিতে থাকলে, আবার যদি বড় ব্যবসা বা বিলাসবহুল সম্পদ যেমন গাড়ি, এসি বা ৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকে, তবে সেই পরিবার ভাতা পাওয়ার যোগ্য হবে না।
সুবিধাভোগীদের ভাতা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হবে, যাতে কোনও বিলম্ব বা ভুলের সম্ভাবনা নেই।
প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই তৃতীয়াংশ বা ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তার জন্য দেওয়া হবে, আর বাকি ১২ কোটি ৯২ লাখ টাকা তথ্য সংগ্রহ ও কার্ড তৈরির কাজে লাগানো হবে।
অবশেষে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এই প্রকল্পের গাইডলাইন ২০২৬ প্রণয়ন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে, যা থেকে সংক্রান্ত যাবতীয় বিস্তারিত জানা যাবে।
