ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে সরকার দল। আজ বুধবার সংসদ এলডি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এই তথ্য জানান। এর আগে, সংসদের সরকারি দলের সভা কক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সভাপতিত্ব করেন সংসদ নেতা।
চিফ হুইপ বলেন, ‘স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের জন্য আমরা সংসদ নেতা তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছি। তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। আগামীকাল এর ফলাফল জানানো হবে। একই সঙ্গে সংসদ উপ-নেতার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
তিনি আরও বলছেন, সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে উল্লেখ করেছেন, ‘সংসদে আমরা (এমপি) কেমন আচরণ করব এবং কার্যক্রম কি হবে তা নিয়ে কথা বলেছেন। প্রথমে খালি চেয়ার দিয়ে শুরু হবে, এরপর সংসদ নেতা সংসদ সভার সভাপতিত্ব করবেন, যেখানে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে।’
বিএনপি আগে জামায়াতের জন্য ডেপুটি স্পিকার পদ প্রস্তাব করেছিল বলে জানা গেছে। চিফ হুইপ জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী উদারতা দেখিয়ে এই প্রস্তাবটি দিয়েছেন, তবে এখনো আমরা সাড়া পাইনি। যদি সাড়া আসে, তার অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।’
অন্তর্বর্তী সরকার সময়ে জারি হওয়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের ব্যাপারে তিনি জানান, মন্ত্রী উত্থাপন করবেন। বিভাগীয় বৈঠকে সব দলের প্রতিনিধি নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে বিশ্লেষণ করা হবে কোন অধ্যাদেশগুলো থাকবে বা বাতিল হবে। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশগুলো পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলবে।
ফলে প্রথম দিনের বৈঠকে কার্যনির্বাহী উপদেষ্টা, প্রিভিলেজ কমিটি ও হাউস কমিটি গঠন করা হবে। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি করে দেওয়া হবে। ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলী মনোনীত হবে, এরপর শোকপ্রস্তাব ও বিভিন্ন আলোচনা পর্যায়ক্রমে চলবে। ভাবনা আছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু, জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা, দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও বিদেশি বিশেষ ব্যক্তিদের শোকপ্রস্তাব উপস্থাপন করার।
জুলাই জাতীয় সনদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কেও প্রশ্ন ওঠে। চিফ হুইপ জানান, সংবিধানে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তারা সেই শপথ নেননি। ভবিষ্যতে সংবিধানে যুক্ত হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটাধিকার, ভাতা ও গণতন্ত্রের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী যে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তারই ধারাবাহিকতা এই সংসদ। এটি কেবল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের অধিকার, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক। আজকের এই সংসদ অধিবেশন থেকে দেশবাসীর আশা, আস্থা ও প্রত্যাশা পূরণের পথ উন্মোচিত হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন থেকে শুরু হবে জনগণের সংসদ, যেখানে দেশের মূল সমস্যাসমূহ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা, যুক্তিপূর্ণ বিতর্ক হবে। সংসদকে কার্যকর, প্রাণবন্ত ও দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য। বিরোধীদলের গঠনমূলক ভূমিকা ও সহযোগিতাও কামনা করছি, যাতে পারস্পরিক সম্মান, সংলাপ ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় দেশের অগ্রগতি সম্ভव।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করাই আমাদের অঙ্গীকার। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমরা সকলে একসঙ্গে কাজ করলে একটি শক্তিশালী, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সম্ভব। দেশবাসীর জন্য দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সরকার দলীয় হুইপ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম, মিয়াউর রশিদ, এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ.বি.এম আশরাফ উদ্দিন (নিজাম)।