কয়েক মাসের বিরতির পর ওয়ানডে ফিরেই তাণ্ডব ঘটাল বাংলাদেশ। জাতীয় দল দুর্দান্ত বোলিং ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং মিশিয়ে পাকিস্তানকে মাত্র ১১৪ রানে অলআউট করে দিয়ে সিরিজের তিন সংখ্যায় বিশাল হাতিয়ায় নিল। প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৩০.৪ ওভারেই গুটিয়ে দিয়ে এটি পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ইতিহাসে তাদের সর্বনিম্ন সংগ্রহ।
পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন ফাহিম আশরাফ। শুরুটা ভালো না হলেও শেষ সময়ে তিনি আব্রার আহমেদের সঙ্গে ৩২ রানের গুরুত্বপূর্ন শেষ উইকেট জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন; তা ছাড়া দলের বাকি ব্যাটাররা বড় দেয়নি।
বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে ছিল সূক্ষ্ম পরিকল্পনা। ইনিংসের শুরুতে নতুন বলে মিতব্যয়ী বোলিং দেখালেন তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান, কিন্তু উইকেটটা করতে পারেননি তারা। দলের অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ স্পিনার হিসেবে দ্রুত আনা হয়েও প্রাথমিক সফলতা পাননি।
তবে এরপর তরুণ পেসার নাহিদ খেলায় নামে ভাঙন ধরান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারেই নাহিদকে বোলিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হলে তিনি আক্রমণ ধরেন এবং ওভারশেষে সাহিবজাদা ফারহানকে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ক্যাচ করিয়ে দলকে বড় ব্রেকথ্রু দেন। এরপর পরপর কয়েকটি ওভারেই শ্যামল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরিয়ে নাহিদ পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে দেন। নিজের পরবর্তী চার ওভারের প্রতিটি ওভারে উইকেট তুলে নেয়ার সুবাদে নাহিদের নামে লেখা গেল ৫ উইকেট, এবং এটা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।
আজি মিরাজও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ১৯তম ওভারে তিনি আব্দুল সামাদকে লিটনের হাতে ক্যাচ করিয়ে ফিরিয়েছেন এবং পরে হোসাইন তালাত ও শাহিন আফ্রিদিকেও ফেরান। তাসকিনের হাতে একটি উইকেটও এসেছিল—২৪তম ওভারের পঞ্চম বলে নাজমুল হোসেন শান্তই প্রথম স্লিপে ধরা পড়ানো ক্যাচে মোহাম্মদ ওয়াসিমকে সাজঘরে পাঠান।
সব মিলিয়ে পাকিস্তান ৩০.৪ ওভারে ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। পাকিস্তান দিয়ে এ হয়েছিল বড় ধাক্কা; এ অবস্থায় ফাহিমের ইনিংস ছাড়া বড় অবদানের অভাব ছিল।
জবাবে তুচ্ছ লক্ষ্যের তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ খেলেছে স্বাধীন ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। ওপেনিংয়ে সাইফ হাসান প্রথমে ৪ রান করে ফেরলেও দলের অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিম আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে নেন। তামিম মাত্র ৩২ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন এবং শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৬৭ রানে দলকে ১৫.১ ওভারে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
শেষত বাংলাদেশের স্কোর পড়ে ১১৫/২—দুটি উইকেট হারিয়ে স্বচ্ছন্দ জয়। তানজিদের এই ইনিংস ছিল দ্রুত এবং কার্যকর, যা দলের জন্য সুফল বয়ে এনেছে।
পৃথকভাবে বললে, নাহিদের বোলিংই ছিল ম্যাচটিকে বাংলাদেশি দিকেই টানার মূল কারণ; আর তানজিদের অনবদ্য ইনিংস জয় নিশ্চিত করেছে। বিরতির পর দেশের ক্রিকেটের এমন দাপট দর্শকদের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ করল।

