বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে জ্বালানি ও গ্যাসের সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারি কর্তৃপক্ষ নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার এ বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে, যার লক্ষ্য হলো ব্যাংক কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ও শেয়ারিং ব্যবস্থা চালু করা। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক সম্পদ সাশ্রয় নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নির্দেশনায় বলা হয়, চলমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায়, সেনসিটিভ পদক্ষেপ গ্রহণ অতি জরুরি। তাই, ব্যাংকের প্রত্যেক কার্যালয় ও শাখার কর্মকর্তাদের বলেছেন, অফিসের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি, ফ্যান ও এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার সীমিত করতে। দিনের আলো充分 ব্যবহার করে আলোর প্রয়োজন কমিয়ে আনতে হবে এবং এসি চালানোর সময় তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।
এছাড়া, জ্বালানি সংরক্ষণের জন্য ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি কমিয়ে গণপরিবহন বা শেয়ারিং সুবিধা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যতটা সম্ভব অপ্রয়োজনীয় বা অপ্রতিরোধ্য যাত্রা এড়াতে বলা হয়েছে। ব্যাংকের অফিসিয়াল যানবাহনের জ্বালানি খরচ কমাতে এবং জ্বালানি তেলের অপচয় হ্রাস করতে সবাইকে সচেতনতা ও মিতব্যয়িতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে, ব্যাংকের ভবনের অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা, প্রচারণামূলক ডিসপ্লে বোর্ড ও বিদ্যুৎ চালিত অন্যান্য যন্ত্রের ব্যবহারে নির্ধারিত সময় ও নিয়মের অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। অতি আলোকসজ্জা এড়াতে এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সংযম দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়া, দরকারে বিদ্যুৎ জেনারেটর চালানোর ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্যও নির্দেশনা জারি হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ৭ সেপ্টেম্বরের বিআরপিডি সার্কুলার লেটারের নির্দেশনাবলী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে। এই নির্দেশনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃত্বের ভিত্তিতে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। প্রচেষ্টা হল দেশের অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের জন্য এটি একটি জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত।