খুলনা–মোংলা মহাসড়কের রামপালে নৌবাহিনীর স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জন। দুর্ঘটনায় বর–কনে ও জমজ শিশুসহ বহু যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন, পাশাপাশি several severalজন আহত হন।
দূর্ঘটনা বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ (গুনাই ব্রিজ) এলাকায় ঘটে। ঘটনাস্থলেই যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হলে তাদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে মোট ১৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন: মোংলা পৌর বিএনপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক (৬২), আহাদুর রহমান সাব্বির (৩০), আব্দুল্লাহ সানি (৩০), ঐশি (২৮), ফাহিম শিকারি (১), ফারহানা সিদ্দিকা (৩৩), আলিফ (১৩), আরফা (৭), আয়রা (২), আনোয়ারা বেগম (৫৮), মার্জিয়া আক্তার মিতু (২৫), মিনারুল আলম সবুজ (৪২) এবং মাইক্রোবাসের চালক মো. নাইম হোসাইন (২৭)। নিহতদের পরিচয় জানায় স্থানীয়রা এবং মৃতদের নাম মিলিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে ১৪ জন ধরা হয়েছে। নববধূ মিতু কয়রার নাকসা গ্রামের ছালাম মোরলের কন্যা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতেই নাকসা গ্রামের মিতুর বিয়ে হয় রামপাল এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাব্বির হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পর পরদিন নববধূ ও তার স্বজনরা মাইক্রোবাসে করে শ্বশুরবাড়ি মংলার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
পথিমধ্যে মাইক্রোবাসটি রামপালের গুনাই ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগামী নৌবাহিনীর স্টাফবাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং কয়েকজন ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের চিকিৎসারত অবস্থায় হাসপাতালে একে একে মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
দুর্ঘটনা সংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রম ও কারণ তদন্তের জন্য পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শন করছে।
ঘটনার পর নিহতদের ঘর ও এলাকায় শোক ও সন্ত্রস্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। বিয়ের আনন্দ যে মুহূর্তে পরিবারে এসেছে, মুহূর্তের মধ্যে তা বিশাল শোকের আড়ালে হারিয়ে গেছে; স্বজনদের কান্না ও আহাজারি ছায়া ফেলেছে পুরো আশপাশে। স্থানীয়রা বলছেন, একই পরিবারের এত মানুষ একসঙ্গে হারানো সত্যিই মর্মান্তিক এবং তারা এই দুর্ঘটনার পূর্ণ তদন্ত ও দায়ীদের দ্রুত বিচারের দাবি করছেন।

