মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা শিবচর উপজেলা বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক মন্তব্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার ও রাতেই ওই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে উঠে।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত শুক্রবার বাহাদুরপুর গ্রামে কুয়েত রিলিফ সোসাইটি ও বাংলাদেশ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হানজালা। অনুষ্ঠানের ভাষণে তিনি শিবচর উপজেলা বিএনপির নেতাদের উদ্দেশ্য করে নানা রকম হুঁশিয়ারি দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৪ মিনিট ২২ সেকেন্ডের ভিডিওতে হানজালাকে বলতে শোনা গেছে, ‘‘তিনি (বিএনপি প্রার্থী) বলেছেন, বিএনপিকে নিয়ে খোঁচাখুঁচি কইরেন না। আরে আমি (হানজালা) যদি বিএনপিকে খোঁচাখুঁচি করি, এ দেশে বিএনপি থাকতে পারবে না।’’ ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, শিবচরের মানুষকে তিনি বাকস্বাধীনতা দিয়েছেন এবং বিরোধী নেতাদের অকারণ হুমকি-ধমকির অভিযোগ তুলে তাঁদের প্রতি সতর্ক হতে বলেন।
বক্তব্যে হানজালা দাবি করেন যে তিনি শান্তি চান এবং শিবচরের প্রতিটি মানুষের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘‘আমি চুপ করে আছি কারণ আমি শান্তি চাই। আমার চুপ থাকা কোনো দুর্বলতা নয়—আমি নতুনত্বের রাজনীতি চাই এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাই না।’’ পাশাপাশি তিনি বলেন, অন্য কাউকে এক্ষেত্রে স্থাপন করলে শিবচরের মানুষ নির্দ্বিধায় চলতে পারত না।
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শিবচর উপজেলা বিএনপি তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। উপজেলা বিএনপির সদস্য-সচিব মোঃ সোহেল রানা বলেন, বর্তমান এমপি ও তাঁর পরিবার আগের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে শিবচরে উগ্রভাবের উত্থান ঘটাতে চাইছেন বলে তিনি মনে করেন। সোহেল রানা দাবি করেন, শিবচরের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ উত্তপ্ত করার উদ্দেশ্যেই এমন বিরূপ মন্তব্য করা হয়েছে এবং আশা ব্যক্ত করেন হানজালা তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করবেন। শিবচর উপজেলা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ করার কথাও জানিয়েছে।
হানজালা নিজের বক্তব্য সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর মূল উদ্দেশ্য শিবচর উপজেলা বিএনপিকেই বলা ছিল। তিনি দাবি করেছেন যে কিছু মানুষ তাঁর কথা কেটে কেটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির নেত্রীকে উদ্দেশ্য করে কেউ আমাকে বলেছেন আমি বিএনপি নিয়ে খোঁচাখুঁচি করি—তাই সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে আমি এমন কিছু বলেছি। কিন্তু ‘দেশে বিএনপি থাকবে না’ বলতে দেশের কথা বোঝানো হয়নি।’’
নোট: প্রতিবেদনে বিএনপি নেত্রী হিসেবে এক জায়গায় নাদিরা আক্তার নামে ও অন্যত্র নাদিরা চৌধুরী নামে নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে নামের ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে।
পটভূমি হিসেবে বলা হয়, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবারের নির্বাচনে খেলাফত মজলিশের রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নাদিরা (প্রতিবেদনভেদে নাম ভিন্নভাবে উল্লেখিত)কে পরাজিত করে শিবচর থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হন। তিনি মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন। হানজালার পারিবারিক পটভূমির বিষয়ে উল্লেখ আছে যে তিনি হাজী শরীয়ত উল্লাহ (রঃ)-এর সপ্তম পুরুষ।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। জনমত ও রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি নিয়ে আরও বিবৃতি দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

