বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জামায়াত এবং এনসিপি বিষয়ক সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। রোববার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরও একসময় একটি মেধাবী শ্রেণি উপস্থিত হয়েছিল, যারা জাসদ গঠন করেছিল। কিন্তু বাড়াবাড়ি করে দেশ ও জাতির ক্ষতি হয়েছে, তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। আমরা যেন সবকিছু হজম করার তৌফিক পাই।’’
মনিরুল হক চৌধুরী জাতীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘‘৯১ সালের সংসদে আমি আপনারা—আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছি, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারের নেতৃত্বে। যখন আপনারা প্রশ্ন তোলেন, মনে হয় এই দেশে ১৫–২০ বছর বিএনপি নেই। কিন্তু দেশনেত্রী অনেক বিরোধ উপেক্ষা করে জামায়াতের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করেছেন। রাজনীতিকে যেখানে নিয়ে এসেছেন, তার পেছনে তার অবদানও একটু স্মরণ করবেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘একসময় জাসদ মনে করত আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষ—এভাবে ইতিহাসকে বিবেচনা করার মতো বুদ্ধি-বিদ্যা প্রত্যেকের আছে।’’
পিছনে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগত অনুভূতিও প্রকাশ করেন। ‘‘আগে যাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতাম, তাদের চিনতাম। আজ যারা বিরোধী, তাদের আমি এখনও পুরোপুরি চিনি না। আমাদের নেতা তারেক রহমান যখন বলেছিলেন ‘কঠিন নির্বাচন’, অনেকেই তখন বুঝতে পারেননি; আমি তখন বুঝেছিলাম। পরে নির্বাচন করতে গিয়ে বুঝেছি আমরা সত্যিই কঠিন নির্বাচন পেরেছি।’’
মনিরুল হক বলেন, ‘‘এত সংখ্যক সদস্য নিয়ে সংসদে আসার পর আলহামদুলিল্লাহ বলা উচিত ছিল জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকেই। কিন্তু আজ আমাদের সম্পর্কে নানা প্রশ্ন উঠছে। কিছু মুক্তিযোদ্ধা যারা এখনও জীবিত, তাদের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হোক—মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। যদি অতীতের ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় বিচারের নামে অন্যায় হয়ে থাকে, তার এক আলাদা আলোচনা আছে।’’
শেষে তিনি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে এবং এনসিপিসহ তরুণ নেতাদের মন্তব্যে বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পর বা এনসিপির মতো অংশগুলোর নেতারা বয়সে ছোটও হতে পারেন, তবু আমি তাদেরই সম্মান করি—কারণ তারা সাহসী সন্তান, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী এগিয়ে আসে।’’

