ইরান সম্পর্কে নেওয়া সাম্প্রতিক নীতিকে নৈতিক ও আইনগত কারণে সমর্থন করতে না পেরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের প্রধান জোসেফ কেন্ট পদত্যাগ করেছেন। কেন্টের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের ভিতরে বিদ্যমান ধ্রুবক বিভক্তিকে আরও অস্পষ্ট করে তুলেছে।
রয়টার্সসহ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এটি এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের ভেতর থেকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আসা সবচেয়ে জোরালো অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ। অনেক কর্মকর্তা মনে করছিলেন যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মিত্ররা এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন; এই মূহুর্তে কেন্টের বিদায় সেই অভিযোগকে আরও জোরালো ভাঙচুরের মতো রূপ দিয়েছে।
নিজের পদত্যাগপত্রে কেন্ট লিখেছেন, ‘বিবেকের তাড়নায় আমি ইরানবিরোধী এই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারছি না। ইরান আমাদের জন্য কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি ছিল না। স্পষ্টতই ইসরায়েল ও তাদের প্রভাবশালী লবির চাপের কারণে আমরা এই সংঘাতে জড়িয়েছি।’
কেন্ট তার বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এও প্রকাশ করেছেন। তার পদত্যাগের খবর পাওয়ার পর গোয়েন্দা মহলের অনেকেই অবাক হয়েছেন; সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টি অনেককে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মন্তব্য করেন যে বর্তমান আইন ও প্রচলিত রীতিনীতিতে কোনো দেশে সামরিক অভিযান শুরু করার ক্ষেত্রে ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ থাকা গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে এই মূহূর্তে সেই ধরনের স্পষ্ট ও তাৎক্ষণিক হুমকির প্রমাণ ছিল না।
ফলত, এতদিন যেসব নানান জায়গায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে পশ্চিমা মিত্ররা সমর্থন দেখিয়েছে, এবারের ঘটনায় তাদের অনেকেই সরিয়ে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প যখন মিত্রদের যুদ্ধ জোড়াতে বলছেন, তখন অনেক দেশের সরকার সরাসরি বলছে—এই সংঘাত তাদের লড়াই নয়। সংবাদে বলা হয়েছে, স্পেন এমন পদক্ষেপও নিয়েছে যাতে তাদের ঘাঁটিটি ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাতে না পারে।
ইরানের প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কিছু দুর্বলতাও ধরা পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বিভিন্ন সময়ে একরকমের স্থির বক্তব্য দিতে পারেননি, ফলে তাদের অভিযান-উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
কেন্টের পদত্যাগ হাইভোল্টেজ পরিস্থিতিতে আগুনে ঘি ঢালার মতো প্রভাব ফেলেছে; তবে হোয়াইট হাউস দ্রুত কোনো মন্তব্য করেনি। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের কার্যালয়ও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
জোসেফ কেন্টের সঙ্গে পরিচিত কংগ্রেসের সাবেক সদস্য তুলসি গ্যাবার্ডও কিছুটা নীরব মনোভাব গ্রহণ করেছেন—যদিও তিনি কয়েকবার আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করে এসেছেন। চলতি সংঘর্ষে তিনি প্রকাশ্যভাবে বড় কোনো বিবৃতি দেননি; কেবল সাম্প্রতিক সময়ে নিহত মার্কিন সেনাদের মরদেহ দেশে ফেরানোর আনুষ্ঠানিকতায় তাকে দেখা গেছে।
অবশেষে, কেন্টের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে যে ভিন্নমত ও অনিশ্চয়তা রয়েছে তা আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—বিশেষত আইনি অধিক্ষেত্রে যুদ্ধ আরোপের নৈতিকতা ও বৈধতা নিয়ে। ভবিষ্যতে এই বিতর্ক কেমন মোড় নেবে, তা সময়ই বলে দেবে।

