চলতি মৌসুমে প্রথম লড়াইয়ে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে ৫-২ গোলে হেরার শোধ এখন সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়োরের জোড়া গোলের সহায়তায় লস ব্লাঙ্কোসরা ৩-২ ব্যবধানে তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করেছে।
খেলায় দ্রুত এগিয়ে গিয়েছিল অতিথিরা। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে আদেমোলা লুকমান জিউলিয়ানো সিমিওনের ব্যাকহিল পাস পেয়ে ছয় গজ থেকে গোল করেন এবং অ্যাতলেটিকোকে ম্যাচের উদ্বোধনী গোল এনে দেন। প্রথমার্ধে রিয়াল গোলরক্ষক আন্দ্রে লুনিনকে ততটা পরীক্ষায় না ফেললেও বিরতির পর ম্যাচের গতিপ্রকৃতি বদলে যায়।
অনেকটা লড়াইয়ের পরে ৫২ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজ বক্সে ফাউল পাকালে রিয়ালকে সমতায় ফেরান ভিনিসিয়ুস—পেনাল্টি থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল নিশ্চিত করে তিনি। মাত্র তিন মিনিট পর ৫৫ মিনিটে ফেডেরিকো ভালভার্দে প্রতিপক্ষের থেকে বল ছিনিয়ে নিয়ে যে শটে লক্ষ্যভেদ করেন, তা রিয়ালকে সাময়িকভাবে এগিয়ে দেয়।
তবে আর বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না সেই লিড। ৬৬ মিনিটে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা ২৫ গজের তীব্র শটে গোল করে স্কোর ২-২ করেন। ম্যাচটি যে রোমাঞ্চে ভরা থাকবে, সে ইঙ্গিত এখানেই মিলেছিল।
রিয়াল আবারও এগিয়ে আসে ৭২ মিনিটে—এইবার ভিনিসিয়ুস বক্সের বাইরে থেকে শক্তিশালী শটে অ্যাতলেটিকো গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এবং নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন। এ সিজনে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ১৭-এ।
ম্যাচের ৭৭ মিনিটে ঘটনাচক্রে রিয়ালকে ১০ জনে খেলতে হয়। ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে আলেক্স বায়েনাকে ফাউল করায় রেফারি ফেডেরিকো ভালভার্দেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। রিয়ালের আপত্তি সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে এবং বাকি সময়ে দলকে এক খেলোয়াড় কম নিয়ে মাঠ সামলাতে হয়।
প্যারামিটারে রিয়াল কিছুটা এগিয়ে ছিল — ৫৯ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ ও মোট ১৪ শটে ৮টি শট লক্ষ্যে রাখা তাদের পক্ষেই। অ্যাতলেটিকো ১২ শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি লক্ষ্যে ছিল। লুনিনের একাধিক সেভ এবং পোস্টে বাধার সাহায্যও রিয়ালকে জয়ের কাছে নিয়ে আসে; শেষের দিকে সরলথের হেডও লুনিন ঠেকিয়েছেন।
এই জয়ে লা লিগার টেবিলে রিয়াল ২৯ ম্যাচে ৬৯ পয়েন্ট নিয়ে আছে দ্বিতীয় স্থানে। অ্যাতলেটিকো একই সংখ্যক ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে।
একই দিনে অনুষ্ঠিত আরেকটি ম্যাচে বার্সেলোনা ক্যাম্প ন্যুতে রায়ো ভায়েকানোকে ১-০ গোলে হারিয়েছে। ম্যাচের একমাত্র골টি করেছেন উরুগুইয়ান সেন্টারব্যাক রোনাল্দ আরাউহো; ২৪ মিনিটে জোয়াও কান্সেলোর কর্নার থেকে তিনি হেড করে বল জালে জড়ান।
পরবর্তী সময়ে উভয় দলের আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ দেখা গেলেও স্কোরলাইন বদলাতে পারেনি কোনো দল। ২৯ ম্যাচে ২৪ জয় ও ১ ড্রয়ের সঙ্গে বার্সা এখন ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। রিয়াল শীর্ষ থেকেই ৪ পয়েন্ট দূরে আছে। রায়ো ভায়েকানো ৩২ পয়েন্ট নিয়ে লিগে ১৪ নম্বরে রয়েছে।

