আড়াই বছরের বিরতির পর রণবীর সিং বড় পর্দায় ফেরেন ‘ধুরন্ধর’ সিরিজের দ্বিতীয় কিস্তি—‘ধুরন্ধর টু’-র মাধ্যমে। প্রথম পার্টটি গত বছর মুক্তি পেয়ে বড় সাড়া ফেলে; টিকিয়ে রাখা সেই উত্তেজনায়ই দ্বিতীয় কিস্তি ১৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে আসে এবং শুরুই রেখেছে বড় রেকর্ড।
বক্স অফিস রিপোর্টে বিভিন্ন সূচকে সিনেমার শুরুর পারফরম্যান্স চোখে পড়ার মত। স্যাকনিল্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তির প্রথম চার দিনে ভারতের আয় (গ্রস) দাঁড়িয়েছে ₹৫৪১.৯৭ কোটি; বিশ্বব্যাপী আয় ধরা হয়েছে ₹৬৯১.৩২ কোটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় তা প্রায় ৳৯০৪ কোটি ৫৮ লাখ। অন্যদিকে বলি মুভি রিভিউ সূত্রে ধরা হয়েছে—চার দিনে বিশ্বব্যাপী মোট আয় দাঁড়িয়েছে ₹৬৯৫ কোটি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৳৯০৯ কোটি। সংক্ষিপ্ত সময়ে বিভিন্ন সূত্রের সামান্য তফাৎ থাকলেও ছবির অর্থনৈতিক সাফল্য স্পষ্ট।
সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর অগ্নিভো নিয়োগী লিখেছেন, “সিনেমাটিতে রক্তাক্ত ও সহিংস দৃশ্য বেশি; কিন্তু সেই সূক্ষ্মতা নেই যা প্রথম কিস্তি দাবি করেছিল।” হিন্দুস্তান টাইমসের ঋষভ সুরি ছবিটিকে ৫-এ ৪ রেটিং দিয়ে বলেছেন, “এটি এক রোলার-কোস্টার থ্রিলার; প্রথম পার্টের নিখুঁততা পুরোপুরি মেলে না, তবু রণবীর সিংয়ের শক্তিশালী অভিনয় ও দ্বিতীয়ার্ধের উত্তেজনা ছবিটিকে তুলে নিয়েছে।” এনডিটিভি’র রাধিকা শর্মা ৫-এ ৩ রেটিং দিয়ে মন্তব্য করেছেন—“এটা প্রায় পুরোপুরি রণবীর সিংয়ের শো; পাকিস্তানের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক অংশে চমকপ্রদ মোড় আছে।” নিউজ১৮-এর চিরাগ সেহগাল ৩.৫ রেটিং দিয়ে বলেছেন, “গল্প বলার ধরন শক্তিশালী; একের পর এক টুইস্ট প্লটকে আকর্ষণীয় করে রেখেছে।”
রেকর্ডের দিক থেকে ‘ধুরন্ধর টু’ নজির গড়েছে। নির্মাতারা জানিয়েছেন, প্রথম দিনেই (পেইড প্রিভিউ সহ) এটি ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে একদিনে সর্বকালের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী হিসেবে রেকর্ড করেছে—যেখানে শীর্ষে রয়েছে আল্লু অর্জুনের ‘পুষ্পা টু’। একইভাবে একদিনে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি আয়কারী ভারতীয় ছবির তালিকায়ও এটি দ্বিতীয় অবস্থানে উঠেছে; শীর্ষে ‘পুষ্পা টু’ (প্রায় ₹২৬০ কোটি)। তাছাড়া হিন্দি ভার্সনে একদিনে সবচেয়ে বেশি আয় করে ‘ধুরন্ধর টু’ শীর্ষে উঠে গেছে—শাহরুখ খানের ‘জওয়ান’ এবং ‘পুষ্পা টু’কে ছাড়িয়ে।
বক্স অফিস বিশ্লেষকরা মুক্তির আগেই অনলাইনে ভবিষ্যদ্বাণী করছিলেন—ভারতে ছবিটি ১ হাজার কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৳১৩২১ কোটি) কমেছে-না। বিশ্লেষক তরণ আদর্শ বলেন, “যদি দর্শকের চাহিদা মিটিয়ে দেওয়া যায়, তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রে সীমা আকাশকেই ছুঁয়ে দেয়; ‘পুষ্পা’, ‘জওয়ান’ এবং ‘ধুরন্ধর’ প্রথম পার্ট সেই দিকটি প্রমাণ করেছে।”
চলচিত্র মালিক এবং উৎপাদন সংশ্লিষ্টরাও আশাবাদী। বিহারের পূর্ণিয়ার রূপবাণী সিনেমা মালিক বিশেক চৌহান স্পষ্টভাবে বলেছেন, “যদি ‘ধুরন্ধর টু’ ১ হাজার কোটি রুপি আয় না করে, আমি সন্তুষ্ট হব না।” প্রযোজক ও বিশ্লেষকরা অতীতের উদাহরণ টেনে বলে দিয়েছেন—কখনও কখনও সিক্যুয়েলই প্রথম কিস্তির কমব্যাককে হারিয়ে দেয়; যেমনভাবে ‘পুষ্পা টু’ তার আগের ছবি ছাপিয়ে গিয়েছিল এবং ‘বাহুবলি টু’ও প্রথম কিস্তির আয়কে ছাড়িয়েছিল।
অভিনয়শিল্পী ও বাজেটের তথ্যও লক্ষণীয়। প্রথম পার্টে রণবীর সিংয়ের বিপরীতে বড় পর্দায় পরিচিতি পেয়েছেন সারা অর্জুন; দ্বিতীয় কিস্তিতেও তিনি রণবীরের সঙ্গী। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন—অর্জুন রামপাল, সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খান্না, আর. মাধবন প্রমুখ। আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে ছবির বাজেট প্রায় ₹২৮০ কোটি; প্রযোজক—আদিত্য ধর, লোকেশ ধর ও জ্যোতি দেশপাণ্ডে।
সংক্ষিপ্তভাবে বলা যায়, মুক্তির শুরুতেই ‘ধুরন্ধর টু’ বাম্পার ব্যবসা ও দর্শক আগ্রহ দুটোই পাওয়ার লক্ষণ দেখিয়েছে। সময়ই বলবে, শেষ পর্যন্ত এটি কতটা বক্স অফিস দাপট দেখায় এবং সমালোচকদের মিশ্র প্রতিক্রিয়ার মধ্য থেকে দর্শকরা কী মুদ্রায় সিদ্ধান্ত নেবেন।

