বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায় চিংগড়ী ও মচন্দপুর গ্রামের বিশ্বাস ও শেখ বংশের সংঘর্ষে অন্তত ৪০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার নয়—রবিবার (২৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে খাদ্য সহায়তা তুলে দিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন নিজে সহায়তা বিতরণ করেন।
সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শেখ বংশের মো. মিরন শেখ গত শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে হত্যা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ২৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৪০-৫০ জনকে আসামী করে চিতলমারী থানায় মামলা (মামলা নং-১৮) দায়ের করেছেন। এই সংঘর্ষে শেখ বংশের একজন রাজিব শেখ নিহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাগেরহাট-১ (চরমোরশেদ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মশিউর রহমান খান এবং স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি’র নেতারা। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে থানা-পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনার পটভূমি: স্থানীয়রা জানান, মধুমতিচরের জমি ও আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস ও শেখ বংশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে আরিফ শেখ নামের এক যুবককে ফুলকুচি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা থেকে ঘটনাটি তীব্র সংঘর্ষে রূপ নেয়। ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার পর বিশ্বাস বংশের লোকজন শেখ পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এতে প্রায় ৪০টি বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
চিতলমারী থানা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি গ্রাম্য বিবাদ থেকে ছোটখাটো সংঘাতে শুরু হলেও দ্রুত বাড়ে। থানা পুলিশও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত বিচারের আবেদন করে একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলায় বিশ্বাস বংশের দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রামদা, টেটা, কাস্তেসহSeveral দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় নিরীহ মানুষদের দাবি, ঘটনার তিন দিন পার হলেও চিংগড়ী ও মচন্দপুর অচল; আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামটি এখন পুরুষশূন্য বললেই চলে—অনেক পুরুষ গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। বাকিরা আশ্রয়ের জন্য বাড়ির মূল্যবান জিনিসপত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা অধিকাংশই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বুধবার নয়—রবিবার সকালে ৪০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে শুকনো খাবার তুলে দেওয়া হয়েছে। যারা আবেদন করবে তাদের বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে টিনশেড ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হত্যা ও অগ্নিসংযোগ মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশি তত্বাবধানে আছে এবং নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

